• প্রেম আর পৈতৃক ভিটের খোঁজে কাঁটাতার পেরিয়ে কাশ্মীরে, PoK-র যুবককে ফেরত পাঠাল সেনা
    এই সময় | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • কাঁটাতার পেরিয়ে প্রেমের বহু কাহিনিই শুনিয়েছে স্বপ্ননগরী বলিউড। বাস্তবেও এমন কাহিনি নেহাত কম নেই। ঠিকই তো, হৃদয়ের টান কেনই বা সীমান্ত, কাঁটাতার, পাসপোর্ট-ভিসার বেড়াজালে আটকে থাকবে! পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জিশান মীরও তা-ই মনে করছিলেন। তবে শুধুই প্রেম নয়, পূর্বপুরুষের সম্পত্তির টানও ছিল। এই জোড়া আকর্ষণেই নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছিলেন বছর বাইশের তরুণ। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। সহজেই ভারতীয় সেনার হাতে ধরা পড়ে যান তিনি। এক মাস পরে, শনিবার কামন আমন সেতুতে পাকিস্তান সেনার হাতে তুলে দেওয়া হলো তাঁকে।

    সংসারে প্রবল অর্থকষ্ট। অনেক চেষ্টা করেও চাকরি না পাওয়ায় মানসিক ভাবে কার্যত ভেঙেই পড়েছিলেন জিশান। সেই সময়েই সমাজমাধ্যমে ইরম বানোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, প্রেম। ইরমের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই জিশান জেনেছিলেন, তাঁর পূর্বপুরুষরা ইরমের তুলওয়ারি গ্রামেরই বাসিন্দা। সেই গ্রামে তাঁদের কিছু জমিজমাও আছে। এর পরে আর ঠেকায় কে! সব ভুলে গত ৩১ মে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে বারামুলায় পৌঁছে যান জিশান।

    তবে কাঁটাতার পারের পরিকল্পনা শুধু জিশানের ছিল না। এতে সমান ভাবে যুক্ত ছিলেন ইরমও। দু’জনে মিলেই ঠিক করেন, জিশান নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে বারামুলায় ঢুকবেন। তার পরে তিনি সোজা পৌঁছে যাবেন ভারতীয় সেনার কাছে। আত্মসমর্পণ করবেন তাদের কাছে। যাতে সেনা তাকে ধরে অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দিতে না পারে। তার পরে জিশান ভারতীয় প্রশাসনকে জানাবেন, অনুপ্রবেশের কারণে তিনি সব রকম সাজা ভোগ করতেও রাজি। পরিকল্পনা ছিল, মুক্তির পরে তিনি সেনাবাহিনীর কাছে আবেদন করে বারামুলায় তাঁর পৈতৃক ভিটেতে যাবেন। আইনি দাবি জানাবেন। তার পরে ইরমের গ্রামেই থেকে যাবেন। সেখানেই তাঁরা বিয়ে করে সংসার পাতবেন।

    কিন্তু শুরুতেই ভেস্তে যায় সব পরিকল্পনা। জিশান আত্মসমর্পণ করার আগেই তাঁকে পাকড়াও করে ফেলে ভারতীয় সেনা। তার পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা বিষয়টি জানতে পারে নিরাপত্তা বাহিনী। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ডাকা হয়েছিল ইরমকেও। তিনিও তদন্তকারীদের জানান, জিশান সত্যি কথাই বলেছেন। তাঁকে ভারতে রেখে দেওয়ারও আবেদন করেছিলেন ইরম। যদিও তা শোনা হয়নি। তদন্তকারী সব দিক খতিয়ে দেখে, নানা জায়গা থেকে খোঁজখবর করে দেখতে চেয়েছিলেন, জিশান আদৌ চরবৃত্তি করতে ভারতে ঢুকেছিলেন কি না। সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাঁকে পাক সেনার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতীয় সেনার চিনার কোর জানিয়েছে, ওই যুবক যত দিন ভারতে ছিলেন, তাঁর সঙ্গে মানবিকতার খাতিরে সহানুভূতি এবং যথাযথ আচরণ করা হয়েছিল।

  • Link to this news (এই সময়)