• ‘যুবরাজের’ গাড়িতে ঝুলে নিরাপত্তারক্ষীরা! থানায় ‘অসম্পূর্ণ’ নথি অভিষেকের, ফের নোটিসের প্রস্তুতি!
    প্রতিদিন | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • অবশেষে মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্ট লঙ্ঘন করার মামলায় কালীঘাট থানায় নথি পাঠালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলায় জরুরি ভিত্তিতে বেশ কিছু নথি চেয়ে তাঁকে নোটিস ধরিয়েছিল পুলিশ। জবাবের জন্য পুলিশের ডেডলাইন ছিল শনিবার। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও থানায় পৌঁছয়নি সেই নথি। তবে আজ, রবিবার এক প্রতিনিধিকে থানায় পাঠান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি গিয়ে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেন বলে খবর। সূত্রের খবর, অভিষেকের পাঠানো ওই নথিতে মোটেই সন্তুষ্ট নন তদন্তকারীরা। যে সমস্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল, তা দেওয়া হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে পুলিশের তরফে ফের নোটিস পাঠানো হতে পারে বলে খবর।

    ঘটনার সূত্রপাত এক ব্যক্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। রাজীব সরকার নামে বাগুইআটির এক বাসিন্দা অভিষেকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ওই ব্যক্তির অভিযোগপত্রে দাবি করেছিলেন, অভিষেকের গাড়িতে দু’জন নিরাপত্তারক্ষী বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত করেন। যা ভেহিক্যাল অ্যাক্টের পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, দ্য মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্ট (১২৩ ধারা) অনুযায়ী, চলন্ত গাড়িতে চালক কিংবা আরোহীর কেউ ঝুলে ঝুলে যাতায়াত করতে পারেন না। দ্বিতীয়ত ১৮৪ ধারা অনুযায়ী, চলন্ত গাড়িতে বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই এই ঘটনায় অভিষেকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে কালীঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। 

    অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একাধিক তথ্য তলব করেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে গাড়িটি কবে কেনা হয়েছিল, চালকের নাম-ঠিকানা সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য চাওয়া হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। শুধু তাই নয়, যাঁদের গাড়িতে ঝুলতে দেখা গিয়েছে, তাঁদের পরিচয়ও জানতে চাওয়া হয় পুলিশের তরফে। এরপরেই এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের লেটারহেডেই কালীঘাট থানায় একটি চিঠি দেন। যা তাঁর এক প্রতিনিধির হাত ধরে পাঠান তিনি। কিন্তু পুলিশের দাবি, তথ্য অসম্পূর্ণ। অর্ধেক তথ্যই দেওয়া হয়নি। 

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অন্ত নেই। দীর্ঘদিন ইডি-সিবিআইয়ের স্ক্যানারে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। অস্বস্তি বাড়িয়েছে সই জাল কাণ্ড এবং ডিজে মন্তব্য মামলা। ডিজে মন্তব্য মামলায় অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করবে সিআইডি। এরমধ্যেই এই মামলা, নতুন করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)