বাস্তবের অন্নপূর্ণা! সরকারি যোজনার ৩০০০ টাকা দুস্থ প্রতিবেশীকে দান মহিলার
প্রতিদিন | ০৫ জুলাই ২০২৬
‘মানুষ বড় কাঁদছে/ তুমি মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াও’। উত্তাল সময় এভাবেই মানবতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়। আজকের এআই যুগে, একা ভালো থাকার যুগে এমন কাতর উচ্চারণ হয়তস মনে রাখেননি অনেকেই। সেই দলে পড়েন না উত্তর দিনাজপুরের সুস্মিতা বিশ্বাস। অসুস্থ পড়শির হাতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রথম কিস্তির পুরো ৩ হাজার টাকা তুলে দিলেন এই হৃদয়মান বধূ! বললেন, ‘‘আমার চেয়ে অনেক বেশি অসহায় উনি।” মানবিকতার অনন্য নজির থাকল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহরের ১২ নং ওয়ার্ডের কালীতলা এলাকা।
দীর্ঘ সাত বছর ধরে জটিল রোগাক্রান্ত হয়ে কার্যত ঘরবন্দি সুস্মিতার প্রতিবেশী শংকর চক্রবর্তীর। অনিশ্চিত জীবন বয়ে যাচ্ছে তাঁর। শরীরের কোষে বাসা বেঁধেছে গুরুতর রোগ। স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন অনেকদিন হল। সারাক্ষণ সেবা, শুশ্রূষা করার মতো বিশেষ কেউ দৃশ্যত নেই পরিবারে। তাঁর একমাত্র দিদি আলপনা পাল ভরসা। সামান্য সামর্থ্যের মধ্যে কোনওক্রমে রোজকার খাবার তুলে দেন। কখনও সখনও দেখাশোনা করেন অসুস্থ ভাইয়ের।
এমনই দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে যেন বাস্তবের অন্নপূর্ণা হয়ে উঠলেন প্রতিবেশী গৃহবধূ সুস্মিতা বিশ্বাস। শনিবার শংকরবাবুর হাতে তিনি তুলে দেন প্রথম পাওয়া অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার বদলের পর আবেদনের ভিত্তিতে প্রথমবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তিন হাজার টাকা হাতে পেয়েছিলাম। কিন্তু আমার চেয়েও অবস্থা খারাপ প্রতিবেশী এই ব্যক্তির। তাই সংগৃহীত সেই অর্থ পাশের বাড়ির অসুস্থ শংকর চক্রবর্তীর হাতে তুলে দিয়েছি। যাতে কিছুটা চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হতে পারেন।” সুস্মিতাদেবী নিজেও আর্থিকভাবে সচ্ছল নন। কোনওক্রমে দিন গুজরান করে। তা সত্ত্বেও তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমার চেয়েও গরিব আমার প্রতিবেশী। তাঁরই অর্থ বেশি প্রয়োজন।”
সুস্মিতা বিশ্বাসের এই উদার মানসিকতাকে ধন্য ধন্য করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানাচ্ছেন, তাঁকে দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হবেন। তাতে সমাজের অসহায় ও বিপন্ন মানুষজন আরও উপকৃত হবেন। এই অভাবনীয় ঘটনায় কুর্নিশ জানিয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ বলেন, ‘‘সুস্মিতাদেবীর মতো আরও অনেক মানুষজন এভাবে মুক্তমনে অসুস্থ ও অসহায় মানুষজনদের পাশে দাঁড়ালে এলাকা আরও উন্নত হয়ে উঠবে।” শিক্ষা ও দমকল ও জরুরি পরিষেবা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী, রায়গঞ্জের বিধায়ক কৌশিক চৌধুরীর কথায়, ‘‘সুস্মিতাদেবীর মতো মানুষজনদের জন্যই সমাজ আজও সুন্দর। ওঁর প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেল। সময় সুযোগ করে অবশ্যই তাঁর বাড়ি গিয়ে দেখা করব।”