• এবার রথযাত্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা অনুদান, কারা পাবেন? বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • আগামী সপ্তাহে রথযাত্রার পুণ্যতিথি। তার আগেই বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এবার শতাব্দী প্রাচীন রথযাত্রা কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এবার রথযাত্রা উপলক্ষ্যে শতাব্দী প্রাচীন রথযাত্রা কমিটিগুলিকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১০০-১৫০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যশালী প্রত্যেকটি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে রাজ্য সরকার। প্রত্যেক জেলায় রথযাত্রা উৎসবকে আরও মহাসমারোহে পালন করতে এই পরিকল্পনা নিয়েছে নবান্ন। এখন ঐতিহ্যশালী এই রথযাত্রা কমিটিগুলির চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

    এদিকে নবান্ন সূত্রে খবর, এই অনুদানের চেক আগামী ১৩ জুলাই অনুমোদিত প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। চেক বিতরণের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে রাজ্যের নানা রথযাত্রা কমিটির প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। আর আসন্ন রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষ্যে সমস্ত জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার দুর্গাপুজোয় অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। শ্রাবণী মেলা থেকে শুরু করে এবার শতাব্দী প্রাচীন রথযাত্রা কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করল।

    অন্যদিকে রথযাত্রা উদযাপন এবং অনুদান নিয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে নবান্ন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক উৎসব রথযাত্রায় প্রত্যেক বছর রাজ্য ও দেশের নানা প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। তাই এই উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে এবং ভক্তদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসনকে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা প্রশাসনকে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে রথযাত্রার রুট এবং ভক্তদের জমায়েতের জায়গায় সেবা শিবির স্থাপন করতে হবে। উল্টোরথের দিনও এই শিবির চালু রাখতে হবে। প্রত্যেকটি জেলার জন্য সেবা শিবির পরিচালনার উদ্দেশে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।

    তাছাড়া এই সেবা শিবিরগুলিতে ন্যূনতম যে সব পরিষেবা রাখতে হবে, সেগুলি হলো- বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস প্যাকেট, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা, তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র, প্রবীণ, মহিলা, শিশু ও বিশেষভাবে সক্ষম ভক্তদের জন্য সহায়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ভক্তবান্ধব পরিষেবা। উৎসবের আগে জেলা প্রশাসনকে পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর, দমকল, পূর্ত দপ্তর, পুরসভা ও পঞ্চায়েত, পরিবহন দপ্তর, রথযাত্রা কমিটি, জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করতে হবে। কারণ ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল, নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কোনও রথযাত্রা কমিটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব, জনসমাগম অথবা উৎসবের বহরের কারণে অতিরিক্ত অনুদানের যোগ্য হলে সেটার বিস্তারিত কারণ-সহ সুপারিশ পাঠানো যাবে বলে জানিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)