আজকাল ওয়েবডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ এবং খুন কাণ্ডে উত্তপ্ত এলাকা। ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবককেও গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে বলেও খবর। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কথা বলেছেন মৃতার পরিবারের সঙ্গেও। দিয়েছেন কড়া পদক্ষেপের আশ্বাসও।
সূত্রের খবর, এ দিন ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মৃতার বাবার সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফোনেই কথা হয় তাঁদের। মঙ্গলবার তিনি ভবানী ভবনে মৃতার পরিবারকে দেখা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
পাশাপাশি, ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুইয়ের সঙ্গেও কথা বলে ঘটনার পুরো বিবরণ নেন। আইজি বলেন, "এই ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তদন্ত দ্রুত শেষ করা হবে। দোষীদের কঠোরতম সাজার আবেদন জানানো হবে।" প্রয়োজন হলে ময়নাতদন্তের পুরো প্রক্রিয়া ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভিডিয়োগ্রাফি করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, রবিবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার ধপধপি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাড়ির কাছেই একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় ওই নাবালিকার দেহ। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারুইপুর থানার পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পরিবারের থেকে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল প্রায় চারটে নাগাদ খাবার কেনার কথা বাড়িতে জানিয়ে বেরিয়েছিল ওই নাবালিকা। অনেক সময় কেটে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়ে পরিবার। বিভিন্ন জায়গায় রাতভোর খোঁজ করেও মেলেনি সন্ধান। রবিবার সকালে সূর্যপুর হাট এলাকার একটি পুকুরে একটি দেহ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে দেহটি তাঁদের কন্যার বলে শনাক্ত করেন। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
অন্য দিকে, ওই ঘটনার পর ঘটনার প্রতিবাদে পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর এবং আগুন জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা। বিক্ষুব্ধ জনতা এ দিন সকালে অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামে এক যুবককে আটক করে সন্দেহের বশে গণপিটুনি দেয়। তাঁকে সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয়। সেই ঘটনার জন্যও পৃথক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।