• এবার 'বাবা'র বিরুদ্ধে পুলিশকে ডেপুটেশন দেবেন হুমায়ুন
    আজকাল | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: চর্চায় হুমায়ুন। এবার পুলিশ সুপারকে ডেপুটেশন দেবেন তিনি। গত শুক্রবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানার কাশিপুর এলাকায় একটি রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নওদার 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর  বেশকিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে পরবর্তীকালে বিতর্ক হয় বিস্তর।  এর পরিপ্রেক্ষিতে রেজিনগর থানার পাঠানো নোটিশে শনিবার তদন্তকারী আধিকারিকের মুখোমুখি হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর।

     অন্য একটি মামলায় শক্তিপুর থানার পুলিশ  হুমায়ুন কবীরকে ৩ জুলাই বেলা সাড়ে এগারোটায় হাজিরা দেওয়ার নোটিশ দিলেও  নওদার বিধায়ক সেখানে এখনও হাজির হননি, কারণও জানাননি। যদিও সংবাদমাধ্যমে হুমায়ুন জানিয়েছিলেন ৩ জুলাই, শুক্রবার তিনি জুম্মার নামাজ পড়তে যাবেন, তাই শক্তিপুর থানায় যাবেন না। 

    এরই মধ্যে রবিবার আজকাল ডট ইনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর জানালেন, 'আগামী ১৫  জুলাই শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের অপসারণ চেয়ে তিনি মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপারকে একটি ডেপুটেশন জমা দেবেন। শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অতনু দাসকে অপসারণ বা সাসপেন্ড না করা হলে তিনি সেখানে যাবেন না।' 

    এর পাশাপাশি আজ হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, 'শক্তিপুর থানা তৈরি করার জন্য তিনি নিজের ব্যবসা থেকে ৪২ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন সেই টাকা আজও ফেরত পাননি।' তাঁর দাবি, 'মমতা ব্যানার্জির মন্ত্রিসভার সদস্য থাকাকালীন আমি শক্তিপুর থানা তৈরি করিয়েছিলাম। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আমাকে থানার দরজা-জানলা এবং অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি নিজের ব্যবসা থেকে ৪২ লক্ষ টাকা তুলে শক্তিপুর থানা তৈরি করে দিয়েছিলাম। এখনও থানার ফলকে আমার নাম লেখা রয়েছে। কিন্তু থানা তৈরি করার জন্য আমার বিনিয়োগ করা টাকা তৃণমূল সরকার ফেরত দিয়ে যায়নি। আর এখন 'আমার তৈরি করে দেওয়া থানা'তেই আমাকে হাজিরা দেওয়ার জন্য ডাকা হচ্ছে!  শক্তিপুর থানায় আমি যাবই না। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র সদস্যদের সঙ্গে যে ধরনের ব্যবহার এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন তা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।' সঙ্গেই বিস্ফোরক অভিযোগ হুমায়ুনের। বলছেন, 'প্রায় রোজ রাতেই পুলিশ 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র বিভিন্ন পদাধিকারী এবং কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে যাচ্ছে এবং তাঁদেরকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।'তবে আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে কথোপকথনে কোথাও গিয়ে কি নিজের বক্তব্যের ভুল স্বীকার করলেন হুমায়ুন? তিনি বলেন, 'মুর্শিদাবাদে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগের দিন, ২২  এপ্রিল, শক্তিপুর থানার পুলিশ আমার ভাইপোকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিল, সেই কারণেই গত ৮ মে আমি গড়দুয়ারা এলাকায় একটি জনসভা থেকে  পুলিশের আচরণের  প্রতিবাদ করেছিলাম এবং সেই সময়  থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সম্পর্কে কিছু 'খারাপ কথা' বলেছি।" তাঁর সংযোজন, 'রেজিনগর থানায় গতকাল আমি হাজিরা দিয়েছি এবং আগামী ১৪ জুলাই আবার আমাকে সেখানে হাজিরা দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। পুলিশের  নোটিশ আমি পালন করব। তবে শক্তিপুর থানায় যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা আপাতত আমার নেই। আগামী ১৫ জুলাই আমি শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের অপসারণ এবং তাঁর শাস্তি চেয়ে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপারকে ডেপুটেশন দেব। পুলিশের আধিকারিকেরা আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তা দেখার পর আমি পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব।' যদিও হুমায়ুন আজ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গত ৩ জুলাই শক্তিপুর থানায় হাজিরা না দেওয়ার কারণে ওই থানা থেকে তাঁকে আর কোনও নোটিশ পাঠানো হয়নি। বলেন, 'শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজেকে আমার 'বাবা' বলে পরিচয় দিচ্ছেন। তাই আমিও জানিয়ে রাখতে চাই 'বাবা'র সঙ্গে আমি এখন দেখা করতে যাব না, তাঁর অপসারণ চেয়ে পুলিশ সুপারকে ডেপুটেশন দেব।'

     
  • Link to this news (আজকাল)