আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘পুতুল নেবেন গো পুতুল’ বাংলা সংস্কৃতির সেই চিরচেনা ডাক এবার পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মর্যাদা। নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী ঘূর্ণির মাটির পুতুল আন্তর্জাতিক জিআই স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
এই স্বীকৃতির ফলে শুধু কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যই নয়, মৃৎশিল্পীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সৃজনশীলতারও বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি মিলল। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের ঐতিহাসিক শহর কৃষ্ণনগর বহুদিন ধরেই মৃৎশিল্পের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে ঘূর্ণি এলাকার শিল্পীদের হাতে তৈরি মাটির পুতুল দেশ বিদেশের মানুষের কাছে সমাদৃত।
নিখুঁত কারুকাজ ও বাস্তবসম্মত অবয়বের কারণে অনেক সময় বোঝাই যায় না যে সেগুলি মাটি দিয়ে তৈরি। শিল্পীদের দক্ষতায় প্রতিটি পুতুল যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। ঘূর্ণির শিবতলার রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত মৃৎশিল্পী সুবীর পাল এই স্বীকৃতিকে শিল্পীদের দীর্ঘ সংগ্রামের ফল বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, "আজ আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। জিআই স্বীকৃতির জন্য বহুদিন ধরে চেষ্টা করেছি। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। এই স্বীকৃতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষ্ণনগরের পুতুলের চাহিদা আরও বাড়বে এবং শিল্পীদের আর্থিক উন্নতির নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও জানান, জিআই ট্যাগ পাওয়ার ফলে কৃষ্ণনগরের পুতুল আর অন্য কোথাও তৈরি করে একই নামে বাজারজাত করা যাবে না। অতীতে বিভিন্ন জায়গার তৈরি পুতুল কৃষ্ণনগরের নামে বিক্রি হওয়ায় প্রকৃত শিল্পীরা ক্ষতির মুখে পড়তেন। নতুন স্বীকৃতির ফলে সেই অনিয়ম অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে। "
প্রতিবছর দেশ বিদেশের বহু পর্যটক কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণিতে আসেন এখানকার বিখ্যাত মাটির পুতুল ও হস্তশিল্প সংগ্রহ করতে। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই এসব পুতুলের দাম হওয়ায় সময়ের সঙ্গে এর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক জিআই স্বীকৃতি ঘূর্ণির মৃৎশিল্পকে বিশ্বদরবারে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করবে। একই সঙ্গে কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্য রক্ষা, শিল্পীদের পরিচিতি বৃদ্ধি এবং এই প্রাচীন শিল্পের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।