• 'ডাক্তারবাবু, সাপে কামড়েছে', ভয়াবহ পরিণতি মহিলার!
    আজকাল | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাপের কামড়ে মহিলার মৃত্যু। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। হাসপাতালে রোগীর পরিজনরা ব্যাপক ভাঙচুর চালান। পাশাপাশি ডাক্তার, নার্সিং স্টাফ, নিরাপত্তা রক্ষীদেরও মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ চার ব্যক্তিকে আটক করেছে। 

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই মহিলার নাম সাইমা বিবি (৫০) । তাঁর বাড়ির রঘুনাথগঞ্জ থানার অন্তর্গত নয়া মুকুন্দপুর গ্রামে। শনিবার বিকেল নাগাদ ওই মহিলাকে একটি বিষাক্ত সাপে কামড়ায়। এরপর সাইমার বাড়ির লোকেরা তাঁকে দ্রুত জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। 

    মৃতের পরিবারের অভিযোগ হাসপাতালে সাইমাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘক্ষণ তাঁকে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হয়েছিল। 'বিনা চিকিৎসায়' সাইমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর পরিবারের লোকেরা দলবদ্ধ হয়ে হাসপাতালের মধ্যে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ, মহিলা বিভাগে ঢুকে তাঁরা কর্তব্যরত ডাক্তার ছাড়াও নার্সিং স্টাফ এবং হাসপাতালে কর্তব্যরত নিরাপত্তা রক্ষীদের ব্যাপক মারধর করেন। এর পাশাপাশি হাসপাতালের বেশ কিছু চেয়ার ,টেবিল এবং রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাইমা বিবির আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। 

    এই ঘটনার খবর পেয়ে রঘুনাথগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত এলাকায় পৌঁছায়। হাসপাতালের মহিলা বিভাগ থেকে পুলিশ মৃত সাইমা বিবির চার আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে যায়। 

    হাসপাতালে কর্তব্যরত এক নার্সিং স্টাফ জানান,' শনিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ সাইমা বিবিকে অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। ওই মহিলাকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তাঁর সংজ্ঞা ছিল না। সম্ভবত সাপে কাটার কারণে তাঁর রক্ত জমাট বেঁধে যাচ্ছিল। সেই কারণে আমরা দ্রুত ডাক্তারকে 'কল' দিয়ে ডেকে আনি এবং ওই মহিলার চিকিৎসা শুরু হয়। "

    তিনি জানান," ডাক্তার এসে দেখার পর রোগীর আত্মীয়দেরকে বলেন সাইমা ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ছে এবং তাঁকে এইচডিইউ ওয়ার্ডে ভর্তির জন্য রেফার করা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে ওই মহিলার মৃত্যু হয়।"

     ওই নার্সিং স্টাফের অভিযোগ," সেই সময় রোগীর বাড়ির লোকেরা হঠাৎ করে ডাক্তার এবং মহিলা বিভাগে কর্তব্যরত নার্সিং স্টাফদের ওপর চড়াও হয় এবং ব্যাপক মারধর করে।"

     হাসপাতাল সূত্রের খবর, সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তা রক্ষীরা কোনওক্রমে পরিস্থিতি সামাল দিলে সাইমার বাড়ির লোকজন মহিলা বিভাগ থেকে রেরিয়ে যান।

     মহিলা বিভাগে কর্তব্যরত আরও বেশ কিছু নার্সিং স্টাফ অভিযোগ করেন,"এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত সাইমা বিবির পরিবারের লোকেরা বাইরে থেকে আরও লোকজন নিয়ে এসে মহিলা বিভাগে ঢুকে পড়ে। ওয়ার্ডে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি চোখের সামনে যে সমস্ত নার্সিং স্টারদেরকে দেখতে পান তাঁদেরকে ব্যাপক মারধর করেন। ডাক্তারের কাছ থাকা স্টেথিস্কোপ নিয়ে এক নার্সিং স্টাফের মাথায় বারবার মেরে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

    এক মহিলা নার্সিং স্টাফ অভিযোগ করেন, প্রাণভয়ে তিনি একটি ঘরে লুকিয়ে পড়লে ১০-১৫ জন ব্যক্তি সেখানে ঢুকে পড়ে এবং তাঁকে গলা টিপে খুন করার চেষ্টা করে। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া এবং যৌন নির্যাতন করার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। 

    এই ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালের কর্মীরা কেবলমাত্র এমার্জেন্সি ওয়ার্ড খোলা রেখে দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন ওয়ার্ডে 'নাইট শিফটের' কাজ বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
  • Link to this news (আজকাল)