• কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল পেল GI ট্যাগ, খুশির হাওয়া শিল্পী মহলে... প্রতিশ্রুতি পূরণ বিজেপির
    News18 বাংলা | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্বখ্যাত ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (GI) রেজিস্ট্রেশনের মর্যাদা পেল নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী মাটির পুতুল। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে ভারত সরকারের এই ঐতিহাসিক অনুমোদনের খবর আসতেই খুশির হাওয়া বইছে কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির পালপাড়া সহ গোটা মৃৎশিল্পী মহলে।

    ১৮ শতকে নদীয়ার প্রজাহিতৈষী রাজা মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের হাত ধরেই এই শিল্পের মূল বিকাশ ঘটেছিল। শিল্প ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক মহারাজা তৎকালীন বাংলাদেশের নাটোর অঞ্চল থেকে একদল অত্যন্ত দক্ষ মৃৎশিল্পীকে কৃষ্ণনগরে নিয়ে এসে বসতি স্থাপন করান। তাঁদের হাত ধরে শুরু হওয়া সেই শিল্পচর্চা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে এবং সময়ের সাথে সাথে কৃষ্ণনগরের ‘ঘূর্ণি’ অঞ্চলটি হয়ে ওঠে বিশ্বখ্যাত মাটির পুতুল তৈরির মূল কেন্দ্র। আজ বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে আমেরিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার মতো একাধিক মহাদেশে রপ্তানি হয় ঘূর্ণির পুতুল। দেশ-বিদেশের নামী জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীতেও এই পুতুল বিশেষ মর্যাদা পেয়ে আসছে।

    মাটির একটা সাধারণ দলা কীভাবে শিল্পীর হাতের জাদু, অসীম ধৈর্য আর অসাধারণ কল্পনাশক্তিতে জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ কৃষ্ণনগরের পুতুল। এই শিল্পের মূল ইউএসপি বা বৈশিষ্ট্য হলো এর অতি-বাস্তবধর্মী রূপ। প্রতিটি পুতুলের চোখের নিখুঁত চাউনি, মুখের সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি এবং শারীরিক গঠন এতটাই বাস্তবসম্মত হয় যে, প্রথম দেখায় যে কেউ বিস্মিত হতে বাধ্য হন। এই অনন্য শৈল্পিক নৈপুণ্যই একে বাকি সব মৃৎশিল্পের থেকে আলাদা করে তুলেছে।

    ‘ঘূর্ণি ক্লে ডল অ্যান্ড টেরাকোটা আর্টিজেন ক্লাস্টার কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোসাইটি লিমিটেড’-এর উদ্যোগে দীর্ঘ আইনি ও প্রযুক্তিগত যাচাইকরণের ধাপ পেরিয়ে অবশেষে মিলেছে ভারত সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন। এই জিআই ট্যাগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এবার থেকে কৃষ্ণনগরের নাম ব্যবহার করে অন্য কোনো অঞ্চলের নিম্নমানের বা নকল পুতুল বাজারে বিক্রি করা যাবে না। ফলে আসল শিল্পের স্বকীয়তা ও গুণমান বজায় থাকবে এবং নকলের থাবা থেকে রক্ষা পাবেন শিল্পীরা
  • Link to this news (News18 বাংলা)