• গাছেও ওপর নির্মম অত্যাচার বন্ধ, কড়া নির্দেশিকা জারি করল রাজ পরিবার! না মানলেই শাস্তি
    News18 বাংলা | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • মহিষাদল রাজবাড়ি। পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। রাজবাড়ির বিশাল গড়ে রয়েছে কয়েকশো বছরের প্রাচীন গাছ। কিন্তু এই গাছগুলি ক্রমশই মৃত্যুর মুখে এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রাচীন গাছগুলিকে রক্ষা করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হল রাজ পরিবার। মহিষাদল রাজগড়ের ভিতরে থাকা কয়েকশো বছরের এই প্রাচীন গাছগুলিতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লোহার পিরেক, বেড়ি দিয়ে ব্যানার টাঙ্গিয়ে গাছগুলিকে মৃত্যুর পথে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। গড়ের বহুগাছ এইভাবে লোহার পেরেক, বেড়ি সহ অন্যান্য জিনিসপত্র দিয়ে ব্যানার দেওয়ার ফলে মারা গিয়েছে। তাই প্রাচীন গাছগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে মহিষাদল রাজবাড়ির বিশেষ উদ্যোগ।

    সামনেই মহিষাদল রাজবাড়ির ২৫০ বছরের প্রাচীন রথ রয়েছে। রথকে কেন্দ্রকরে একমাসের মেলা। সেই মেলায় শেষ কয়েক বছর ধরে ব্যানার টাঙানোর ফলে অনেক গাছের যেমন মৃত্যু ঘটেছে, তেমনি গড়ের দৃশ্য দূষণ ঘটেছে। তাই রাজবাড়ির প্রাচীন গাছ বাঁচিয়ে রাখতে এবং দৃশ্য দূষণ দূর করতে রাজবাড়ির বর্তমান প্রজন্মের রুদ্রপ্রসাদ গর্গের উপস্থিতিতে মহিষাদল রাজবাড়ি চত্বরে সমস্ত ব্যানার খোলার পাশাপাশি গাছ থেকে লোহার পেরেক, বেড়ি প্রভৃতি খুলে ফেলা হয়। তাই এবার রাজবাড়ির চত্বরে গাছে পেরেক পুঁতে আর বিজ্ঞাপন নয়। এবার কড়া পদক্ষেপ করলেন মহিষাদল রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি রাজবাড়ির তরফে রাজগড়ের মধ্যে বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

    মহিষাদল রাজ পরিবারের সদস্য রুদ্রপ্রসাদ গর্গের তত্ত্বাবধানে রাজগড় থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সমস্ত বিজ্ঞাপনের পোস্টার। টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকা। তা অমান্য করে বিজ্ঞাপন লাগালেই নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা। রাজ পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য রুদ্রপ্রসাদ গর্গ জানান, “আগেই রাজবাড়ির পক্ষ থেকে নেশামুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য একাধিক প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। এবার রাজবাড়ি চত্তরে প্রাচীন গাছ বাঁচাতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করলাম। পরবর্তী সময়ে যারা রাজবাড়ির গাছে ব্যানার বা অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”

    গাছে পেরেক পুঁতে বিজ্ঞাপন লাগানোর জেরে ফাঁপা হয়ে যাচ্ছিল গাছের কাণ্ড। ফলে শেষ কয়েক বছর বেশ কিছু গাছের মৃত্যু ঘটে। তাই রাজবাড়ির ঐতিহ্য বজায় রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ করল রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষ। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে পরিবেশপ্রেমীরা। তাদের মতে এই ধরনের উদ্যোগ আগে গ্রহণ করলে রাজবাড়ির অনেক প্রাচীন গাছ রক্ষা করা যেত। সবমিলিয়ে রাজবাড়ি চত্বরে পর্যটকদের দৃশ্য দূষণের হাত থেকে এবং সর্বোপরি গাছ বাঁচিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ পরিবার।
  • Link to this news (News18 বাংলা)