• ‘প্রতীক যদি নিয়েও নেয়…’, বিজেপি ও বিদ্রোহীদের একাসনে বসিয়ে আক্রমণ মমতার
    এই সময় | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • দলত্যাগ করছেন একের পর এক পুরোনো সঙ্গী। প্রতীক ও তহবিল কার অধীনে থাকবে, তার ভাগ্য ঝুলে রয়েছে আদালত ও নির্বাচন কমিশনের। দলীয় কার্যালয় নিয়ে টানাপড়েনে শনিবার সকালেই দলের সব থেকে পদত্যাগ করেছেন তৃণমল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এমত অবস্থায় শনিবার বিকেলে একটি ফেসবুক লাইভ করে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, আপাতত দলের রাজ্য সভাপতি পদটি সামলাবেন তিনি নিজেই। দলের আরও দুই সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন বিধায়ক মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষ।

    এ দিনের ভিডিয়ো বার্তায় মমতা বলেন, ‘আমি চেয়ারপার্সন হিসেবে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসটা দেখব, স্টেট তৃণমূল কংগ্রেসও দেখব। এখন আর অন্য কোনও কাজ নেই। এখন এই দলের কাজটাই ভালো করে করব। আমি প্রতিদিন কর্মীদের সঙ্গে দেখা করি। সুতরাং এখন দলটাকে আরও করে দেখব।’

    দলের বিদ্রোহী শিবিরকে এ দিনের ভিডিয়ো বার্তায় কটাক্ষ করেন মমতা। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, গত ২২ জুন তাঁরা তৃণমূলের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিলেন। ওই বৈঠকের পরে নতুন কর্মসমিতি গঠন করা হয়। পাল্টা মমতা বলেন, ‘যাঁরা দলের সিম্বলে জিতে, আমার সই করা সিম্বলে জিতেছেন, তাঁরা আজ বলছেন, ২০২৩ সালের পরে থেকে নাকি এই দলের অস্তিত্ব নেই, আমাদের ২০২৭ অক্টোবরে ফের নির্বাচন করার কথা এখন নয়।’

    সম্প্রতি বাইপাসে পার্টি অফিস নিয়ে কাদের অধীনে থাকবে? তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী বিধায়করা গতকালই সেই অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে এসেছিলেন। এ দিন সেই সম্পর্কে মমতা বলেন, ‘আমার অফিসটাই, ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটটাই তৃণমূল কংগ্রেসের অফিস হিসেবে রয়েছে। আজও রয়েছে। ভবিষ্যতেও করবে।’ মেট্রোপলিটন বাইপাসের যে অফিসে যে অফিসে তালা লাগানো হয়েছে, সেখানে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এ দিন ফেসবুক লাইবে বেশ কিছু ভাড়ার রশিদও তুলে ধরেন মমতা।

    ইতিমধ্যেই দলের প্ৰতীক ও তলবিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশনের তরফে আগামী সোমবার দলের দুই শিবিরকে এই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে চিঠি পাঠাতে বলা হয়েছে। মমতা বলেন, ‘বিজেপি থেকে দল ভাঙার চক্রান্ত হচ্ছে। প্রতীক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।…প্রতীক আপনাদের পক্ষে যাবে না। ধরে নিলাম, ভ্যানিশ কুমার (জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার) আমাদের পার্টিকে ফিনিশ করার নির্বাচন করেছেন, যদি প্রতীক নিয়েও নেয়, তাতে কি যায় আসে। প্রতীক সেটাই যেটা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করে, তৃণমূল কংগ্রেস গ্রহণ করে।’

    বিভিন্ন স্টেশনে হকার উচ্ছেদ, মিড ডে মিলের মেনু নিয়ে বিতর্ক-সহ বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতাদের উপরে ডিমবর্ষণ, কিছু জায়গায় অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানো-সহ একাধিক ইস্যুতে এ দিন সরব হয়েছেন মমতা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণের বিষয় ছিল অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদান চুরির বিষয়েও। তিনি বলেন, ‘লুট করে এত সন্ত্রাস করছেন, কবে এ সব বন্ধ হবে। কেন সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছেন? নির্বাচনে জেতার আনন্দ তো দু’মাস পেরিয়ে গিয়েছে। এত দিন ধরে তো উৎসব চলে না।’

  • Link to this news (এই সময়)