পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে বন্ধ হয়ে যায় হরমুজ় প্রণালী। জ্বালানি সঙ্কটে ভুগতে শুরু করে গোটা বিশ্ব। তার আঁচ এসে পড়ে ভারতেও। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে পেট্রল-ডিজেলের দাম। কিন্তু সেই সঙ্কট কী ভাবে পেরিয়ে এল গোটা দেশ? শনিবার রাজস্থানে নতুন রিফাইনারি প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত, সুপরিকল্পিত কৌশল এবং ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতার জোরেই দেশ বড় ধরনের জ্বালানি সঙ্কট কাটিয়ে ওঠে দেশ।’
এ দিন একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করে মোদী বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীতে নতুন ভারতের ইচ্ছাশক্তি ও প্রচেষ্টাই এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় জ্বালানি সঙ্কটকে পরাস্ত করেছে।’ তাঁর দাবি, পরিস্থিতির গুরুত্ব আগেই বুঝে কেন্দ্র সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছিল। দেশের সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের ফলেই জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।
বিরোধীদেরও একহাত নিয়েছেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘কিছু রাজনৈতিক শক্তি শুধু গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার নিরলসভাবে কাজ করেছে, যাতে দেশের মানুষকে জ্বালানির অভাবে পড়তে না হয়।’ ভারতকে প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করতে হয়। জ্বালানি সঙ্কটে তাই বেসামাল দশা হয় গোটা দেশের। মোদীর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সেই আর্থিক বোঝা সরকারই বহন করেছে, যাতে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে আত্মনির্ভর ভারতের প্রসঙ্গ টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোনও দেশ তখনই প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী হয়, যখন সে জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হতে পারে।’ তাঁর মতে, রাজস্থানের এই রিফাইনারি সেই লক্ষ্যপূরণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
এদিন যোধপুর বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনেরও উদ্বোধন করেন মোদী। পাশাপাশি কংগ্রেসকে নিশানা করেন মোদী, ‘আগের সরকার রিফাইনারি প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই প্রকল্পের কাজ গতি পেয়েছে।’ কিছুটা রসিকতা করে তিনি এও বলে দেন, ‘আপনারা আমাকে চেনেন। যে প্রকল্পের শিলান্যাস আমি করি, সেই প্রকল্পের উদ্বোধনও আমিই করি।’