‘আপনাদের ই-২০ পেট্রল নেব না’, ভারতের প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ ভুটানের
প্রতিদিন | ০৪ জুলাই ২০২৬
দেশের মাটিতে সমালোচনায় বিদ্ধ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ‘ই-২০’। কেন্দ্রের এই প্রকল্পে মাইলেজ কমে যাওয়ার পাশাপাশি গাড়ির বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই প্রতিবেশী দেশ ভুটানকে এই ই-২০ পেট্রল দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ভারত। তবে সে প্রস্তাব খারিজ করে ভুটানের তরফে জানানো হয়েছে সাধারণ পেট্রলই দেওয়া হোক তাদের। এমনটাই দাবি ভুটানের সংবাদমাধ্যমের।
জানা যাচ্ছে, ই-২০ পেট্রল নিয়ে ভারতের অন্দরে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক ভুটান। সে কথা মাথায় রেখেই প্রস্তাব খারিজ করা হয়েছে। ভুটানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, সে দেশের বেশিরভাগই পার্বত্য অঞ্চল। ফলে এখানে দীর্ঘ চড়াই ও উতরাই রয়েছে। এদিকে ভারতে এই পেট্রল নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ই-২০ পেট্রল যানবাহন নষ্ট করছে। সর্বত্র এহেন অভিযোগ ওঠায় চাপে ভারত সরকার। এই অবস্থায় ভুটানের দাবি, যেহেতু তাদের দেশ পাহাড়ে ঘেরা তাই পার্বত্য অঞ্চলে চলাচলের জন্য যানবাহনে বেশি মাইলেজ প্রয়োজন। ফলে ই-২০ পেট্রলকে ঘিরে অভিযোগ উঠছে তা সত্যি প্রমাণিত হলে, সমস্যা বাড়বে।
প্রতিবেশী দেশ ভুটান নিজেদের চাহিদার সমস্ত জ্বালানি ভারত থেকেই কেনে। এই অবস্থায় ভুটানের দাবি, ই-২০ পেট্রল শুধু যানবাহনের মাইলেজের ক্ষেত্রেই সমস্যার নয়, অন্যান্য সমস্যাও রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভুটান ভারত থেকে তেল কিনে ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ করে। দেশটির এক আধিকারিক বলেন, এই ট্যাঙ্কগুলিতে ই-২০ মিশ্রিত পেট্রল সংরক্ষণ করা হলে জল চুঁইয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে। ভুটানের সংবাদপত্রে বলা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কগুলি ইথানল মিশ্রিত পেট্রল সংরক্ষণের উপযুক্ত নয়। তাই এই পেট্রল কিনবে না তারা।
উল্লেখ্য, ই-২০ বা ইথানল-মিশ্রিত পেট্রলে সাধারণ পেট্রোলের চেয়ে অনেক বেশি হাইড্রোক্সিল গ্রুপ থাকে। এর ফলে এটি চারপাশের আর্দ্রতা সহজে শোষণ করে। তাই, এই ট্যাঙ্কগুলিতে পেট্রল সংরক্ষণ করলে জল চুইয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সেটাই মূল সমস্যা বলে জানানো হয়েছে ভুটানের তরফে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, ভারত সরকার ভুটানকে নতুন ট্যাঙ্ক সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ করেছে।