ই-রিকশা হ্যাকে ৩ বছরের জেল, ৫ লক্ষ জরিমানা! চিনা অ্যাপের কারসাজি রুখতে কড়া কেন্দ্র
প্রতিদিন | ০৪ জুলাই ২০২৬
চিনা অ্যাপ ব্যবহার করে হ্যাক করে নেওয়া হচ্ছে ই-রিকশা। মোবাইলে আঙুলের সামান্য ছোঁয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যাত্রীবাহী পরিবেশবান্ধব তিন চাকার যান। সম্প্রতি এমনই একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। এই ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র। সন্দেহজনক ওই অ্যাপ প্লে স্টোর থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশের পাশাপাশি এই ধরনের অ্যাপ ব্যবহারে অভিযুক্তের জেল ও জরিমানার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা গিয়েছে, কয়েকজন ব্যক্তি কাছাকাছি থাকা ই-রিকশার সঙ্গে ব্লু-টুথের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করছেন। এবং মবাইলের সামান্য ছোয়ায় গাড়িগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে দিচ্ছেন। বিএটি-বিএমএস অ্যাপ ব্যবহার করেই এই ধরনের কুকীর্তি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগের বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে চলন্ত গাড়িতে দূর থেকে এই ধরনের হস্তক্ষেপে বড়সর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দেশে এই অ্যাপের বাড়বাড়ন্ত নজরে আসার পর শনিবার এই ইস্যুতে মুখ খোলেন ইলেকট্রনিক্স এবং IT দফতরের সচিব এস কৃষ্ণ। তিনি বলেন, এই ধরনের দুটি অ্যাপ আমাদের নজরে এসেছে। অবিলম্বে প্লে স্টোর থেকে অ্যাপগুলিকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই ধরনের অ্যাপ প্লে স্টোর থেকে মুছে ফেলা হলেও বেআইনি ভাবে এর ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন সাইবার আইন বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পবন দুগ্গাল। তিনি বলেন, এই ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে কোনও ই-রিকশা বন্ধ করা আইনত অপরাধ। তিনি বলেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই এটা কোনও খেলা নয়, এটি তথ্য প্রযুক্তি আইনে বড়সড় অপরাধ। কারণ এই ধরনের অ্যাপ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ই-রিকশার কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে তাকে বিকল করে দেয়। ফলে এই অ্যাপ ব্যবহার করে কোনও গাড়ি হ্যাক করা হলে অভিযুক্তের তিন বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।’
BAT-BMS-এর মতো অ্যাপগুলো প্রকৃত উদ্দেশ্য হল এই অ্যাপ লিথিয়াম ব্যাটারির উপর নজর রাখতে সাহায্য করে। BAT-BMS ব্যাটারির চার্জ, ভোল্টেজ, কারেন্ট, তাপমাত্রা, সাইকেল লাইফ এবং প্রতিটি ব্যাটারি সেলের অবস্থার যাবতীয় তথ্য দেখায়। এই অ্যাপটি ব্লুটুথের মাধ্যমে লিঙ্ক করা যায়। যার মাধ্যমে ব্যাটারির চার্জিং এবং ডিসচার্জিং ফাংশন নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এখান থেকেই হ্যাকিংয়ের সূত্রপাত। কিছু ই-রিকশা, এমনকি দুই চাকার যানবাহনেও ব্লুটুথ-সক্ষম বিএমএস ইউনিট থাকে। এখানে পাসওয়ার্ডের কোনও ব্যবস্থা থাকে না বা থাকলেও সামান্য। ফলে যে কেউ ১০ থেকে ১৫ মিটার দূর থেকে ব্লুটুথের মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এর ডিসচার্জ ফাংশন বন্ধ করে দিতে পারে। যেহেতু ডিসচার্জ ফাংশনটি মোটরে শক্তি সরবরাহ করে, তাই এটি নিষ্ক্রিয় করলে যানটি সঙ্গে সঙ্গে থেমে যেতে পারে। বিপজ্জনক বিষয় হল, এই কাজ করার জন্য কারও হ্যাকিং সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। মোবাইলের সামান্য ছোঁয়ায় এটা সম্ভব।