বিশ্বজোড়া নজির গড়বে ভারতীয় আয়ুর্বেদ! বাঙালি অর্থনীতিবিদের তৈরি নীল নকশা
প্রতিদিন | ০৪ জুলাই ২০২৬
কেরল অনেকদিন ধরেই আয়ুর্বেদকে কাজে লাগিয়ে নিজের অর্থনীতির মেরুদন্ড শক্ত করছে। রাজস্থান, গুজরাতও আয়ুর্বেদে অনেক এগিয়েছে। কিন্তু রাজ্য প্রশাসনের উদাসীনতায় গত পাঁচ দশকে পিছয়ে পড়েছিল বঙ্গ আয়ুর্বেদ। পালাবদলের বাংলায় ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বঙ্গ আয়ুর্বেদ। এই পরিস্থিতিতে আয়ুর্বেদের বিশ্বজয়ের ব্লু প্রিন্ট প্রকাশ করলেন একজন বাঙালি অর্থনীতিবিদ ড. অশোক কুমার লাহিড়ী। নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যানের হাত ধরেই আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূলস্রোতে আনার লক্ষ্যে নীতি আয়োগ প্রকাশ করল আয়ুর্বেদের গ্লোবাল রোডম্যাপ। যা আগামী দুই দশকে আয়ুর্বেদের বিশ্বায়নের রূপরেখা তৈরি করবে।
ড. অশোক লাহিড়ীর দাবি, “আয়ুর্বেদ কেবল একটি ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতিই নয়, এটি একুশ শতকে ভারতের অন্যতম মূল্যবান জ্ঞান সম্পদ।” এই ঘটনায় উচ্ছ্বসিত বঙ্গ আয়ুর্বেদের প্রতিনিধিরা। অধ্যাপক ডা. অবিচল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “আজকের পৃথিবীতে শুধু ভালো চিকিৎসাপদ্ধতি থাকলেই হয় না। তাকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজন নীতি, গবেষণা, মান নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা, বাণিজ্য, কূটনীতি এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। আয়ুর্বেদের ইতিহাসে এই রিপোর্ট একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠবে।”
নীতিপত্রে বলা হয়েছে, ২০৪৭সালের মধ্যে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আয়ুর্বেদ স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য স্থান পায়। সেই লক্ষ্যপূরণে একাধিক যুগান্তকারী প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে আয়ুর্বেদ চিকিৎসক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থাগুলিকে এক ছাতার তলায় আনতে ‘গ্লোবাল আয়ুর্বেদ রেজিস্ট্রি’ তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তাব রয়েছে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর আয়ুর্বেদ অ্যান্ড যোগা’ গঠনের। আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী পৃথক ‘এক্সপোর্ট এডিশন আয়ুর্বেদিক ফার্মাকোপিয়া’ বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবা, চিকিৎসা পর্যটন এবং গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং-সবকিছুকেই একই সুতোয় গেঁথে একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ডা. বিশ্বজিৎ ঘোষ জানিয়েছেন, পরিকল্পনার জোরে চাইনিজ ট্রাডিশনাল মেডিসিন আজ বিশ্বজুড়ে সমীহ আদায় করে নিয়েছে। এবার আয়ুর্বেদের পালা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুরুত্ব বাড়লে বাংলা তথা গোটা দেশে আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের সম্মান বাড়বে। কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। বহু দেশে আয়ুর্বেদ জনপ্রিয় হলেও অভিন্ন শিক্ষা কাঠামো, ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণার তথ্যভান্ডার এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব ছিল স্পষ্ট। নতুন রোডম্যাপ সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে।