মমতার আমলে দিঘার জগন্নাথের রথের রশি টানার অধিকার ছিল না ভক্তদের, এবছর সাধারণ মানুষও টানতে পারবে রথের রশি
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৪ জুলাই ২০২৬
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে এ বছর রথের রশি হাত দিতে ও টানতে পারবেন সাধারণ মানুষ। এবার সবার যাতে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার রথের রশি টানতে পারে সেই ব্যবস্থাই করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, গত বছর শুধু বিশেষ আমন্ত্রিতরাই রথের রশি টানার সুযোগ পেয়েছিলেন। এবার আর তা করা হবে না বলেই খবর।
রথযাত্রার দিন তিনটি পৃথক রথে চড়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা মাসির বাড়ির যান। সেখানে সাত দিন থাকেন তাঁরা। পূজা, ভোগ নিবেদন ও প্রসাদের আয়োজন করা হয়। এরপর উল্টো রথের দিন মাসির বাড়ি থেকে ভাই-বোনকে মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর রথের রশি টেনেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সরকারের আমন্ত্রিত অতিথিরা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সাদা পোশাকের সিভিক ভলান্টিয়াররাও রশি ধরেছিলেন। কিন্তু সাধারণ ভক্তদের সেই সুযোগ ছিল না। তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতেই প্রশাসন নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বলে খবর।
গত ২৯ জুন মন্দির প্রাঙ্গনে অস্থায়ী বেদিতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার স্নানযাত্রা হয়। এখন জোরকদমে চলছে রথযাত্রার প্রস্তুতি। রথগুলির সংস্কার, রং করা এবং নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পুরীর মতো প্রতি বছৎ নতুন রথ তৈরি না হলেও এ বছর তিনটি রথ নুতন করে রং করা হয়েছে। বর্তমানে সেগুলি মূল মন্দিরের উত্তর দিকে রাখা হয়েছে।
ইতিমধ্যেয়ি মাসির বাড়ির পথ ধরে তিটি রথ নিয়ে পরীক্ষামূলক মহড়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, রথযাত্রার দিন যাতে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয় এবং সবকিছু নির্বিঘ্নে সম্পন্ন্ করা যায়। একই সঙ্গে গতবারের তথাকথিত ভিআইপ সংস্কৃতি এড়িয়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও ভক্তের সমাগম হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, রথযাত্রা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভক্তদের অংশগ্রহণ যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকেও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডলের বলেন, আগে সাধারণ ভক্তদের রথের কাছে যেতে দেওয়া হতো না, এমনকী রশি স্পর্শ করারও সুযোগ মিলত না। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। যাতে সকলে ভক্ত রথের রশি হাত দিতে ও টান দিতে পারে সেই ব্যবস্থাই করা হচ্ছে।