• মমতার সঙ্গ ছাড়ার জন্য নেত্রীকেই কাঠগড়ায় তুললেন চন্
    আজকাল | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মমতা ব্যানার্জির হাত ছেড়লেন একদা তাঁরই বিশ্বাসভাজন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সংগঠনে ডামাডোল শুরু হতেই চন্দ্রিমাকে তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী করা হয়েছিল। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই সেই পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। এছাড়াও দলীয় অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় তাঁর দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করার যে দায়িত্ব তাঁর ছিল, তাও ছেড়েছেন চন্দ্রিমা।

    শুক্রবার ঋতব্রত শিবির তৃণমূল ভবনের দখল নিয়েছে। সেই সময়ে সেখানেই ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দলের রাজ্য সভানেত্রী ভবনে থাকতেও কেন তা দখন হয়ে গেল? প্রশ্ন তুলে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকেই দায়ী করেছিলেন 'ক্ষুব্ধ' মমতা বন্যানার্জি। আর এতেই গোঁসা হয়েছে তাঁর।  শনিবার সংবাদমাধ্যমে চন্দ্রিমা বলেন, "নেত্রী বলেছেন আমি ভবন ঋতব্রতদের হাতে তুলে দিয়েছি। সেটা অত্যন্ত বেদনার। আমার বিশ্বাসযোগ্যতা, আনুগত্য প্রশ্নের মুখে। মনে হচ্ছে আমি অযোগ্য। ওরা তো আমার ঘরে ঢোকেনি। ফলে বাদা দেওয়ার প্রশ্নই নেই। তাই সব কিছুর জন্য নিজেকেই দায়ী করছি। ফলে দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। দলে অনেক বড় বড় নেতা আছেন, তারা এখন সব চালাবেন।"

    নেত্রী যোগাযোগ করলে কি তিনি ফের দলীয় পদে ফিরবেন? জবাবে চন্দ্রিমা বলেন, "পরবর্তী পথ সময় বলবে।"

    কিন্তু এরপরই নয়া মোড়। দেখা যায়, প্রাক্তন মন্ত্রী ছেলে সৌরভ বসুকে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় যান। সোজা ঢুকে পড়েন বিরোধী দলনেতার ঘরে। সেখানে তখন হাজির ছিলেন তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' শিবিরের ঋতব্রত ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম-সহ আরও অনেকে। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে ছিলেন তিনি।

    পরে বিকেল ৩.৪০ নাগাদ বিধানভা থেকে বেরিয়ে যান চন্দ্রিমা দেবী। সাংবাদিকদের বলেন, "কালের নিয়মে সকলকেই চলে যেতে হয়।" 

    তাহলে কী তাঁর ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখানো সময়ের অপেক্ষা? জবাবে চন্দ্রিমা বলেন, "এখানে কোথাও যাওয়ার বিষয় নয়। আমি বিধানসভায় এলে তো শাসক শিবিরের ঘরে নয়, বিরোধী দলের ঘরেই বসব।"

    এদিন নেত্রীর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন প্রাক্তন মন্ত্রী! বলেন, "অনেকেই মনে করতে পারেন যে, আমি তৃণমূল শাসনকালে প্রভাবশালী ছিলাম। আসলে আমি নামেই ছিলাম মন্ত্রী। দপ্তরের কাজে আমার বিশেষ হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না। যেমন- বাজেট জনতা জানার মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে আমি জানতে পারতাম। কে বা কারা সেটা লিখে দেন সেসব আমি বলব না। গোপনীয়তা বজায় রাখছি।"

    চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে কটাক্ষ করে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল শিবিরের নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, "উনি কাজ করতে না পারলে বলেননি কেন? কেন মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি? কেন সব সুবিধা নেওয়ার সময়ে কোনও অভিমান হল না?।"

     
  • Link to this news (আজকাল)