• বড় চাল চেলে দিলেন মমতা!
    আজকাল | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেট্রোপলিটন কার্যালয় ঋতব্রত শিবির দখল নিতেই তোপসিয়ার আসল তৃণমূল ভবনে বসার সিদ্ধান্ত নিল কালীঘাট তৃণমূল। আসল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি এবং দলের কর্তৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন এবার রাজপথ থেকে সরাসরি পৌঁছে গেল দলীয় কার্যালয় দখলের লড়াইয়ে। বঙ্গ রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন অধ্যায় তৈরি করে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইএম বাইপাসের ধারে তৃণমূল কংগ্রেসের সাউথ ক্যানেল (মেট্রোপলিটন) কার্যালয়ের ‘দখল’ নিল ঋতব্রত শিবির। ‘তৃণমূল ভবনে’র গেটে ঝুলল নতুন তালা, আর চাবি চলে গেল ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অন্যতম মুখ আখরুজ্জামান আনসারির হাতে। শুধু তাই নয়, কার্যালয়ের গেটে পড়েছে ‘মমতাহীন’ নতুন পোস্টার, যেখানে মমতা ব্যানার্জি বা অভিষেক ব্যানার্জির  কোনও ছবি নেই। 

    সেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে স্পষ্ট অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে শুধুমাত্র অরূপ রায়ের নাম। আখরুজ্জামান আনসারি স্পষ্ট জানান, “এই ভবন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের আবেগ। আমরা এখানেই বসব। বাড়িমালিক মন্টু সাহার সঙ্গে এই মর্মে আমাদের চুক্তিও সই হয়েছে।” উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তপসিয়ার মূল ভবনটির সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় দলের কাজকর্ম সাময়িকভাবে বজায় রাখতে মন্টু বাবুর এই সাউথ ক্যানেল রোডের ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে তপসিয়ার কাজ শেষ হওয়ায় এবং মন্টু বাবুর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করায় কালীঘাট শিবির পুরনো ভবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও, ঋতব্রত শিবির এই সাউথ ক্যানেলের ভবনটিকেই নিজেদের ঘাঁটি বানাল।

    গতকাল কার্যালয় হাতছাড়া হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে হাজির হন বেলেঘাটার বিধায়ক তথা কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষ এবং আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরী। তবে দরজায় নতুন তালা ঝুলতে থাকায় তাঁরা কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ, এবং কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোটা এলাকা কার্যত মুড়ে ফেলা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীতে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ ঋতব্রত শিবিরের এই পদক্ষেপকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেন। 

    কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়ে তিনি পালটা অভিযোগ তোলেন, “যারা এসেছেন, তাঁরা কি নির্দল প্রতীকে জিতেছেন? দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনও কাজ করব না। কর্মীরা কষ্ট পাচ্ছেন। আমরা যখন নিচুতলার কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে একবার থানা, একবার আদালত, একবার এলাকায় ছুটছি, তখন এঁরা হোটেল এবং বিজেপি নেতাদের বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করছেন।” কুণাল আরও দাবি করেন, যে সমস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে জলাভূমি ভরাট, জমি দখল বা অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন, তাঁরাই এখন পিছনের দরজা দিয়ে দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা করছেন।

     দলের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কালীঘাটের বাড়ির সংলগ্ন ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি রোডের পার্টি অফিসটিকেই দলের ‘সেন্ট্রাল অফিস’ বা ‘হেডকোয়ার্টার’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যার পাশাপাশি দিল্লিতেও একটি কার্যালয় রয়েছে। তবে সাউথ ক্যানেল ভবনকে ঘিরে এই সংঘাতের মাঝেই দিল্লির নির্বাচন কমিশন (Election Commission) এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ঋতব্রতদের প্রতিনিধি দল কমিশনের সাথে দেখা করার পরের দিনই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে কালীঘাট শিবির এবং ঋতব্রত শিবির—উভয় পক্ষকেই নিজেদের যাবতীয় দাবি এবং নথিপত্র জমা দিতে হবে।

    এই দল কার এবং কার কোন প্রতীক পাওয়া উচিত, তা নিয়ে চলা বিতর্কের ফয়সালা করতেই কমিশন এই কড়া সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই কালীঘাট শিবির তাদের সমস্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। প্রগতি ময়দান থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের পর এই রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাত আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাজনৈতিক মহলের।
  • Link to this news (আজকাল)