Big Breaking: তৃণমূল রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শুধু রাজ্য সভাপতির পদই নয়, দলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন চন্দ্রিমা। তাঁর এই পদত্যাগে আরও নিঃসঙ্গ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগেই সরে গিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসের মতো তাঁর এককালের ছায়াসঙ্গীরা। সরেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, অরূপ রায়রাও। এ বার সরলেন চন্দ্রিমা। কিছু দিন আগেই চন্দ্রিমার ছেলেকে দেখা গিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের লবিতে। এ বার কি তা হলে তিনিও সেই দিকেই হাঁটছেন?
গত ৩ জুন কালীঘাটে ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং হয়েছিল। সেখানেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির পদে বসানো হয়। এক মাসের মধ্যেই সেই দায়িত্ব ছাড়লেন চন্দ্রিমা। সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে তৃণমূল ভবনের দখল নিয়ে যখন ঋতব্রত-লবি ও কালীঘাট-লবির সঙ্গে আকচাআকচি চরমে, সে সময়েই লবি বদলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেন রাজ্যের প্রাক্তন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। কালীঘাটে চিঠিও পাঠান।
এমনও শোনা যাচ্ছে, শনিবারই হয়ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেন চন্দ্রিমা। তেমনটা হলে পরিবর্তনের রাজ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘আসল তৃণমূল’ হবেন চন্দ্রিমাও।
শুক্রবারও মেট্রোপলিটনে তৃণমূল ভবনে ছিলেন চন্দ্রিমা। যে ভবন দখল নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এত বিবাদ। সেখান থেকে বেরোনোর পরেই কেন এই সিদ্ধান্ত? সংবাদমাধ্যমে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, তিনি তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সৈনিক। গত ৩ জুন কালীঘাটে যে মিটিং হয়, সেখানে তাঁকে এই রাজ্যের সভানেত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে দিন থেকে একদিনও তৃণমূল ভবনে যাওয়া বাদ দেননি।
চন্দ্রিমা বলেন, ‘গতকাল একটা ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন বিধায়ক আমাদের ওই অফিসে ঢুকেছিলেন। তবে আমি যে ঘরে বসি, সে ঘরে কেউ ঢোকেননি। অনেকে বলছেন আমি তড়িঘড়ি বেরিয়ে গিয়েছিলাম। একেবারেই তা নয়। সময় মতোই বেরিয়ে বাড়ি আসি। এর পরেই আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ফোন করেন। তিনি আমাকে বলেন, ‘তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে?’ আমার এত দুঃখ হয়েছে। আমি বললাম, দিদি আপনি আমাকে এ কথা বলতে পারলেন? আমি এটা করতে পারি? আমার মনে হলো আমার আনুগত্যে কোনও প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে। যখন আনুগত্যে প্রশ্নচিহ্ন থাকে, তার পরে আর কিছু করা যায় না। সেখানে থেকে কাজ করা উচিত নয় বলে আমার মনে হয়।’