• নিষিদ্ধ মোবাইল ফোন, বাধ্যতামূলক ইউনিফর্ম, রামমন্দিরের অনুদান গোনায় কড়া নিয়ম ট্রাস্টের
    এই সময় | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের টাকা গোনার নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে সব কর্মী মন্দিরের দানের টাকা ও সোনা-রুপো গোনার কাজ করবেন, তাঁদের গণনা কেন্দ্রে ঢোকার আগে দু’বার তল্লাশি হবে। একই সঙ্গে সেই সব কর্মীর জন্য একটি ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নীল রঙের সেই ইউনিফর্মে থাকবে না কোনও পকেট। রামমন্দিরে অনুদান চুরির অভিযোগ সামনে আসার পরে জালিয়াতি রুখতেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি।

    টাকা গোনার পুরো পদ্ধতি পুরো বদলে ফেলা হয়েছে। আগে টেবিল ও চেয়ারে বসে টাকা গোনার কাজ হতো। কিন্তু নতুন নিয়মে, কর্মীদের মেঝেতে বসে টাকা গুনতে হবে। টাকা গণনা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ব্যাগ এবং অন্য কোনও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও গণনা হলে ঢোকার আগে সমস্ত কর্মচারীকে জুতো ও চটি বাইরে খুলে রাখতে হবে। রামমন্দিরের অনুদানের টাকা চুরির ঘটনায় তদন্তকারী দল (SIT) এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে। সেই তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীনই ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এমন কঠোর ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

    পুলিশ ও তদন্তকারী দল সূত্রের খবর, রামমন্দির ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টের একটি নতুন এবং বড় অডিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে SIT। এই নতুন পর্যালোচনার আওতায় গত পাঁচ বছরের সমস্ত অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হবে। এই সময়ের মধ্যে রামমন্দিরের নির্মাণ কাজের খরচ এবং নগদ টাকা, সোনা, রুপো ও গয়না-সহ সমস্ত দানের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব হবে।

    ৭ জুন রামমন্দিরের টাকা চুরির কেলেঙ্কারি সামনে আসে। এর পরেই উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে। তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন একটি FIR দায়ের করা হয়। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুর্নীতির তদন্তের আঁচ ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তাদের উপরও পড়েছে। ইতিমধ্যেই ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই, প্রাক্তন ট্রাস্টি অনিল মিশ্র এবং মন্দিরের আধিকারিক গোপাল রাওকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

  • Link to this news (এই সময়)