দলের প্রতীক ও তহবিল নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছেই। শুক্রবার রাত থেকে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছে পার্টি অফিস দখল নিয়ে। তা নিয়ে রাত পর্যন্ত চলল ‘নাটক’। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শনিবার সকালে ইকো পার্কে রোজের মতো প্রাতঃভ্রমণে গিয়েছিলেন দিলীপ। সেখানে মন্ত্রী বলেন, ‘বাড়ির মালিক কাদের অধিকার দেবেন, তা দেখার প্রয়োজন নেই, নিজেরাই তালা মারছেন। এটা তো অন্যায়। আমার মনে হয় এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।’
সায়েন্স সিটির অদূরে ‘তৃণমূল ভবন’ মেরামতির কাজ চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে। অস্থায়ী ভাবে মেট্রোপলিটনের একটি বাড়িতে তৃণমূলের রাজ্য দপ্তর স্থানান্তরিত হয়েছে কিছু দিন আগে। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির সেই অফিসে গিয়ে টাঙিয়ে দেয় নতুন ব্যানার, গেটে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তালা। দিলীপ বলেন, ‘পাড়ার দুই তৃণমূল গুন্ডা মারপিট করত। বোম মারত। মারা যেত সাধারণ মানুষ। এখনও সেই অভ্যাস যায়নি। বাড়ির মালিক কাদের অধিকার দেবেন সেটা দেখার প্রয়োজন নেই, নিজেরাই তালা মারছেন।’
শাসন ক্ষমতায় থাকাকালীন বিরোধীদের পার্টি অফিসে তালা ঝোলানোর অভ্যেস ছিল তৃণমূলের, অভিযোগ দিলীপের। তাঁর কথায়, ‘একুশের নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বহু লোকজন আমাদের পার্টি অফিসে তালা মারছিল। তখন প্র্যাকটিস করছিল। এখন কাজে আসছে। নিজেদের পার্টি অফিসেই তালা মারছে।’
তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থার বর্ণনা দিতে দিলীপের বক্তবে উঠে আসে ফুটবল বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ। ফিফা বিশ্বকাপে শুক্রবার মাঝরাতে খেলা ছিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল আর্জেন্টিনা ও প্রথমবার বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া কেপি ভের্দের। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জেতে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের কথা তুলে দিলীপ বলেন, ‘আর্জেন্টিনা বিশ্ব বিখ্যাত দল। কিন্তু তাদের অবস্থা এখন তৃণমূলের মতো হয়ে যাচ্ছে। যে তৃণমূলের কথায় পাতা নড়ত, সূর্য উঠত, সেই তৃণমূলে অবস্থা দেখেছেন! দু’টি গ্রুপে লড়াই হচ্ছে। ঘর দখলের লড়াই হচ্ছে। কী অবস্থা! আর্জেন্টিনা সম্পর্কে আমাদের খুব উচ্চ ধারণা ছিল যে খুব শক্তিশালী দল। একটা অজ্ঞাতকুলশীল দল এসে তাদেরকে আটকে দিচ্ছে।’