: সাধক বামদেবের অন্যতম তীর্থভূমি তারাপীঠ মা তারার মন্দির। প্রত্যেকদিন এই তারাপীঠ মন্দিরে মা তারার দর্শনের জন্য হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসেন। বিশেষ তিথিতে সেই পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে যায় প্রায় কয়েকগুণ। আর কয়েকদিন পরেই পবিত্র রথযাত্রা উৎসব। আর এই রথযাত্রার দিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু পর্যটক ছুটে আসেন মা তারার দর্শনের জন্য। প্রসঙ্গত অন্যান্য জায়গায় দেখা যায় রথযাত্রার দিন রথে থাকেন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা। তবে ব্যতিক্রম তারাপীঠ।
তারাপীঠে রথের দিনই মা তাঁরাকে রথে চড়িয়ে নগর পরিক্রমা করানো হয়। ভক্তের ঢল নামে সেই রথযাত্রা দেখতে। কথিত রয়েছে, তারাপীঠের বিখ্যাত সাধক দ্বিতীয় আনন্দনাথ তারাপীঠের রথের প্রচলন শুরু করেছিলেন। সেইসময় একটি পিতলের রথ তৈরি হয়েছিল। প্রতি বছর এই পিতলের রথে চড়েই নগরভ্রমণে বের হন মা তারা। মায়ের বিশেষ পুজোর ব্যবস্থা করা হয় মূল মন্দিরে।
রথ যাত্রার এই বিশেষ দিনে মা তারাকে গর্ভগৃহের বাইরে নিয়ে এসে গোটা তারাপীঠ পরিক্রমা করানো হয়। আর সেই কারণেই পর্যটকদের ঢল নামে। আর এই বিশেষ তিথিতে তারাপীঠে হোটেল ভাড়া নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তারাপীঠ হোটেল অ্যাসোসিয়েশন। পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তারাপীঠ হোটেল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই বছর রথযাত্রা উপলক্ষে হোটেল ভাড়ার ক্ষেত্রে বড় ছাড় দেওয়া হবে।
তারাপীঠ হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সুনীল গিরি জানান “দুর্গাপুজো, কালী পুজোর সময় এমনিতেই পর্যটকদের কথা চিন্তা করে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নন এসি রুমে এবং ২০ শতাংশ পর্যন্ত এসি রুমে ছাড় দেওয়া হয়। তবে এই বছর আমরা রথযাত্রার দিন তারাপীঠের বেশ কয়েকটি হোটেলে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত নন এসি রুমে এবং ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এসি রুমে ছাড় দেওয়ার কথা চিন্তা করেছি।”
অন্যদিকে তারাপীঠের একটি বেসরকারি হোটেলের মালিক কৌস্তব সিংহ জানান “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি রথযাত্রার আগের দিন এবং রথযাত্রার দিন বিভিন্ন হোটেলে পর্যটকদের বিশেষ ছাড় দেবো।” তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান “হোটেল কর্তৃপক্ষ ভাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারণ রথযাত্রার দিন তারাপীঠ মন্দিরে হাজার হাজার পর্যটকেরা আসেন। তাঁরা সকলে কম টাকায় হোটেলে ভাড়া থাকতে পারবেন।”