• মমতার হয়ে আপনি, অভিষেকের কৌঁসুলি কে? এজলাসে বিচারপতির প্রশ্নে ‘নির্বাক’ কল্যাণ
    প্রতিদিন | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে আদালত অবমাননা মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে লড়ছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের হয়ে লড়ছেন কে? কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে দাঁড়িয়ে কার্যত ‘নির্বাক’ বর্ষীয়ান আইনজীবী। এখনও অভিষেক ও কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) সম্পর্কের বরফ গলেনি, এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবে প্রাসঙ্গিক সে বিষয়।

    শুক্রবার হাই কোর্টে শুনানিতে বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করবেন। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে অভিষেকের বিরুদ্ধে কে লড়বেন? কল্যাণ সোজাসাপ্টা কোনও জবাব দেননি। পরিবর্তে খানিকটা ইতস্ততবোধ করেন। আদালতের বক্তব্য, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে রুল জারি করতে হবে। বলে রাখা ভালো, পালাবদলের পর দলের অধিকাংশ নেতাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন্ড কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সরাসরি নাম না করলেও আইপ্যাককে নিশানা করে আদতে অভিষেককে বিঁধেছিলেন কল্যাণও। তারই মাঝে অভিষেকের বিধানসভায় সই জাল মামলা থেকে আইনজীবী হিসাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখনই ক্ষুব্ধ কল্যাণ জানিয়েছিলেন আর অভিষেকের হয়ে মামলা লড়বেন না।

    শ্রীরামপুরের সাংসদ সেই সময় আরও বলেন, “ওর জন্য দলটা শেষ হয়ে গেল, তারপরও কী ঔদ্ধত্য! রাত সাড়ে ১২টায় আমার ছেলেকে ফোন করে বলছে জুনিয়রস্য জুনিয়র অয়ন এই মামলায় সওয়াল করবে। এটা শুনে আমি বলে দিয়েছি, আমি অভিষেকের সঙ্গে নেই। ওর ঔদ্ধত্য মেনে নেব না।”

    কল্যাণ (Kalyan Banerjee) সাফ জানান, “আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।” তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘরোয়া কোন্দল নিয়ে রাজনৈতিক চর্চায় কার্যত জল ঢেলে দেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে কটূ কথা বলার। উনি আমাকে ছোট থেকে বড় করেছেন। আমার তাঁর প্রতি কোনও ক্ষোভ নেই। আমি তাঁকে আগেও সম্মান করতাম। এখনও করি। তাই তিনি যদি আমাকে সমালোচনা করেন, সেই অধিকারও তাঁর আছে।” তাই অনেকেই ভেবেছিলেন ‘দ্বন্দ্ব’ মিটে গিয়েছে অভিষেক ও কল্যাণের। তা সত্ত্বেও এদিনের এজলাসের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে অভিষেক।
  • Link to this news (প্রতিদিন)