• কালো কোট পরে থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূলের অপরূপা, ৪ ঘণ্টা পরে বেরিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন রাস্তায়
    এই সময় | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • অবশেষে থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ আইনজীবীদের মতো কালো কোট পরে শ্রীরামপুর থানায় পৌঁছন তিনি। শ্রীরামপুর থানার সামনে আগে থেকেই মোতায়েন ছিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিকেল ৪টের একটু পরে, টানা ৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি থানা থেকে বেরিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাস্তায় পড়ে যান মাথা ঘুরে। সূত্রের খবব, পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    অপরূপা থানায় যে কালো কোট পরে গিয়েছেন, তা সাধারণত নিম্ন আদালতের আইনজীবীরা পরে থাকেন। কিন্তু কেন এই পোশাক পরেছেন প্রাক্তন সাংসদ, তার কোনও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। অপরূপা নিজেও সেই ব্যাপারে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল মনে করিয়ে দিচ্ছেন, প্রাক্তন সাংসদ পেশায় আইনজীবীও। পুলিশ আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার সময়ে নিজের সেই পরিচয় তুলে ধরতেই সম্ভবত তিনি আইনজীবীর মতো কালো কোট পরেছেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

    পুরোনো মামলায় স্বামী সাকির আলি এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার দিনে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছিল অপরূপার বিরুদ্ধে। গত বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে থানায় হাজিরা দিতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই দিন পুলিশের তলবের সাড়া দেননি অপরূপা। চলে গিয়েছিলেন কলকাতায়। ওই দিন সাকিরকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করেছিল এনআইএ। সেখানেই গিয়েছিলেন তিনি। তার পরে শুক্রবার অপরূপাকে আবার তলব করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব বলেছিলেন, ‘প্রাক্তন সাংসদকে আবার নোটিস পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার তাঁকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। এই মামলায় আরও কিছু জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত করা হয়েছে।’

    ২০২৩–এ রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল রিষড়া। পরের দিনই রিষড়ায় যান তৎকালীন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে। কিন্তু পরে তাঁরা জামিন পেয়ে যান। পরবর্তীকালে এই ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। গোষ্ঠীসংঘর্ষে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার তৃণমূলের কাউন্সিলার ও প্রাক্তন উপপুরপ্রধান সাকিরকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। মঙ্গলবার তাঁকে বাড়ি থেকে বার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়াতে দেখাতে গিয়েছিল তাঁর স্ত্রী অপরূপাকে। সেই সময়ে প্রাক্তন সাংসদকে এক পুলিশকর্মীর উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘হু আর ইউ (আপনি কে)? আমার পুলিশি নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই।’ সামান্য ধাক্কাধাক্কিও হয় সেখানে। তার অব্যবহিত পরেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অপরূপার বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধাদানের মামলা রুজু হয়।

  • Link to this news (এই সময়)