রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই সংক্রান্ত আবেদন দায়ের করেছেন তিনি। সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি বা অন্য কোনও কড়া আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কা থেকেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
গত বুধবার নদিয়ার কালীগঞ্জের পলাশিতে বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে তৃণমূলের বৈঠকে যোগ দেন মহুয়া। সেখানে তাঁকে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এর পরেই কালীগঞ্জ থানায় FIR দায়ের করেন তিনি। কিন্তু মহুয়ার দাবি, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। উল্টে তাঁর বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি, জোরপূর্বক কোনও দমনমূলক ব্যবস্থা বা অন্য কোনও কড়া আইনি পদক্ষেপ থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ। আইন অনুযায়ী তাঁর অধিকার সুরক্ষিত রাখতে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মহুয়া আবেদনপত্রে দাবি করেছেন।
আইনজীবীর দাবি, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে BNSS-এর ৩৫(৩) ধারায় মহুয়া মৈত্রকে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে। ই-মেলের মাধ্যমে পাঠানো ওই নোটিসের জবাবও দিয়েছেন তিনি। তবে আদালতে মহুয়ার পক্ষের দাবি, আইন অনুযায়ী নোটিসটি যথাযথভাবে তাঁর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়নি। বরং একটি নির্মীয়মাণ ভবনের দেওয়ালে নোটিসটি সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া মৈত্র। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলাটির জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
মহুয়া মৈত্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কবে শুনানির দিন নির্ধারণ করে এবং এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই এখন নজর। হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের উপরেই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছে আইনজীবীদের একাংশ। যদিও এই মামলার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
তবে শুধু আলিফার বাড়িতে নয়। আগেও মহুয়াকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার চেষ্টা হয়েছিল। গত ১৩ জুন কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল মহুয়ার। সেই খবর পেয়েই আদালত চত্বরে জড়ো হন বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীরা। পাল্টা মহুয়া সে দিন বলেছিলেন, ‘প্রত্যেকটা বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করব। থানায় যাব। এখন পুলিশ আপনাদের, হাইকোর্টে যাব। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাব।’