কে ছোটাছুটি করছে ওভাবে? এত জোর করে হাকডাক আবার! সামনে যেতেই চোখ কপালে! এ যে খাঁচাবন্দি চোর! বিগত দিন ধরেই গ্রামে গায়েব হচ্ছিল একের পর এক মুরগি, ছাগল। কে নিয়ে যাচ্ছে, তা ধরতেই পারছিলেন না স্থানীয়রা। অবশেষে এদিন পড়ল ধরা। এক সপ্তাহে দু’দুবার! ভগৎপুর চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি লেপার্ড। ডুয়ার্সের নাগরাকাটার ভগৎপুর চা বাগানে ফের ধরা পড়ল একটি পূর্ণবয়স্ক লেপার্ড।
আর এই ঘটনায় নতুন করে চাপা ভয় ছড়িয়েছে গোটা চা বাগান জুড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই বাগান এলাকায় লেপার্ডের আনাগোনা চোখে পড়ছিল শ্রমিকদের। সেই সঙ্গে গায়েব হচ্ছিল গৃহ পালিত পোষ্য। কখনও রাতের অন্ধকারে ছায়ামূর্তি, কখনও হঠাৎ অস্বাভাবিক শব্দ ভয়ের আবহ তৈরি হচ্ছিল ধীরে ধীরে। পরিস্থিতি বুঝে চা বাগান কর্তৃপক্ষ বনদফতরের কাছে খাঁচা পাতার আবেদন জানায়।
এরপর প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাগানের ১৪ নম্বর সেকশনে ছাগলকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে খাঁচা পাতে বনদফতর। তারপর বৃস্পতিবার হঠাৎই খাঁচার ভিতর থেকে ভেসে আসে গর্জন। চমকে ওঠেন শ্রমিকরা। কাছে গিয়ে দেখা যায়, একটি পূর্ণবয়স্ক লেপার্ড খাঁচার ভিতর বন্দি অবস্থায় রয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বনদফতরের খুনিয়া স্কোয়াড। যথাযথ নিরাপত্তা মেনে লেপার্ডটি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৯ তারিখেও একই বাগান থেকে আরেকটি লেপার্ড ধরা পড়েছিল। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দু’দুবার লেপার্ড উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক চরমে উঠেছে। শ্রমিকদের আশঙ্কা, বাগানের আশপাশে আরও লেপার্ড লুকিয়ে থাকতে পারে। তবে এদিন লেপার্ড খাঁচাবন্দি হওয়ায় একটু স্বস্তি মিললেও ডুয়ার্সের এই সবুজ চা বাগানে। আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা ভেবেই কপালে ভাঁজ স্থানীয়দের। তবে বন দফতরের কড়া নজর রয়েছে এলাকার ওপর।