• ১৬ নথি জমা দিয়েও নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারলেন না যুবক, ‘বিদেশি’ তকমাই বহাল হাইকোর্টে
    এই সময় | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • নাগরিকত্ব প্রমাণে ১৬টি নথি আদালতে পেশ করা হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-র প্রতিলিপি, জমির দলিল, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড। কিন্তু কোনও নথিই গ্রাহ্য হলো না আদালতে। গত সাত বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়েও শেষে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারলেন না অসমের এক বাসিন্দা। নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে তাঁর আবেদন খারিজ করে দিল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। গত ৩০ জুন বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরমা এবং বিচারপতি শামিমা জাহানের ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নাগরিকত্বের প্রশ্নে নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপরেই বর্তায়— যা এ ক্ষেত্রে আবেদনকারী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

    ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি গুয়াহাটির (কামরূপ) ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল আমিনুল হক নামে এক ব্যক্তিকে বিদেশি বলে ঘোষণা করেছিল। ট্রাইব্যুনালের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আমিনুল। দাবি করেছিলেন, তিনি পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁর পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অসমে বসবাস করে আসছে। আমিনুলের আইনজীবীর যুক্তি ছিল, নথিপত্রে তাঁর বাবা এবং দাদুর নামের বানানে সামান্য কিছু ভুল থাকার কারণেই ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিদেশি বলে ঘোষণা করেছে। নাগরিকত্ব প্রমাণে আদালতে আমিনুল ১৯৫১ সালের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির প্রতিলিপিও জমা দিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর দাদু ও বাবার নাম নথিভুক্ত রয়েছে। ১৯৬৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বছরের ভোটার তালিকার প্রতিলিপিও জমা দিয়েছিলেন আমিনুল। দেখিয়েছিলেন, সব ক’টি ভোটার তালিকায় তাঁর এবং তাঁর বাবা-মায়ের নাম রয়েছে।

    এ ছাড়া ১৯৭৩ সালের জমি কেনার দলিল, পার্মানেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বর বা প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড, এমনকী হাসডোবা আঞ্চলিক হাইস্কুলের শংসাপত্রও আদালতে পেশ করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও আমিনুলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতিরা। ভোটার তালিকায় আমিনুলের বাবার নামের বানানে যে ফারাক রয়েছে (কোথাও মহিরুদ্দিন শেখ, কোথাও আবার মাহরুদ্দিন শেখ বা মহির উদ্দিন), তা নিয়ে আদালতে বিশেষ কোনও আপত্তি ছিল না। এই ত্রুটিকে বিশেষ গুরুত্বও দিতে চায়নি আদালত। হাইকোর্টের আপত্তির জায়গা হলো— ডোবাকুরা, ঘুঘুডোবা এবং হাসডোবা এলাকার যে ভোটার তালিকা আমিনুল জমা দিয়েছেন, তাতে কোথাও তাঁর, তাঁর বাবা এবং দাদু পাসান আলির নাম একসঙ্গে নেই।

    আমিনুলের আইনজীবীর দাবি করেছিলেন, জীবিকার কারণেই আমিনুলের পরিবার প্রথমে ডোবাকুরা থেকে ঘুঘুডোবা এবং পরে হাসডোবায় চলে যায়। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভোটার তালিকার ‘গরমিল’ রয়েছে, তা ঢাকতেই এই যুক্তি সাজানো হয়েছে। বার বার ঠিকানা বদলের পক্ষে কোনও লিখিত বা আইনি প্রমাণও আমিনুল জমা দিতে পারেননি বলে জানিয়েছে আদালত। আমিনুলের বাবা আদালতে হাজির হয়ে আমিনুলকে নিজের সন্তান বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, নাগরিকত্বের প্রশ্নে উপযুক্ত নথিপত্র ছাড়া কেবল মুখের কথার উপর ভিত্তি করে পারিবারিক সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয়।

    আমিনুল ২০১৭ সালের একটি স্কুল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন আদালতে। সেখানে লেখা ছিল, তিনি ১৯৯৯ সালে স্কুল ছেড়েছেন। কিন্তু ওই শংসাপত্রের সত্যতা যাচাই করার জন্য স্কুলের প্রধানশিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কোনও কর্তৃপক্ষ আদালতে এসে হলফনামা বা সাক্ষ্য দেননি। ফলে আইনত সেই নথির কোনও মূল্য ছিল না বলে জানিয়েছে আদালত।

  • Link to this news (এই সময়)