বদলে যাওয়া শহর, নতুন শুরুর গল্প বলে ‘নেভার মাইন্ড’
এই সময় | ০৩ জুলাই ২০২৬
একটি দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এগোবে ছবির গল্প। প্রেক্ষাপট পার্ক স্ট্রিট। ধরা পড়বে নানা মানুষের জীবন, সম্পর্ক, ভাঙা–গড়া আর বদলে যাওয়া সময়ের ছবি।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর মতে, ছবির গল্প প্রথমবার শোনার পরই তিনি বুঝেছিলেন, এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং জীবনের এক অন্য রকম যাত্রা। পরিচালক চৈতি ঘোষাল প্রথমে তাঁর কাছে অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন। ঋতুপর্ণা বলেন, ‘এমন ধরনের রিফ্রেশিং ছবি আগে প্রযোজনা করিনি। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়, সব বয়সের দর্শকই এই ছবির সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন।’ অভিনেত্রী জোড়েন, ‘লাভ-লোকসানের অঙ্কের চেয়ে একটি ভালো গল্প দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিই।’
ছবিতে তাঁর চরিত্র, ইংল্যান্ড থেকে কলকাতায় ফিরে আসা এক নারীর। পার্ক স্ট্রিটের একটি বারে এসে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে সে নিজের জীবনকেও নতুন করে চিনতে শেখে। পার্ক স্ট্রিট ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই নিজের ছোটবেলার স্মৃতিতে ফিরে যান ঋতুপর্ণা। তিনি বলেন, ‘বাবা আমাকে প্রায়ই পার্ক স্ট্রিটের বিভিন্ন নামী রেস্তোরাঁয় নিয়ে যেতেন। কেকের দোকানে যাওয়া, চা–কফি খাওয়া বা রাস্তায় হাঁটা—এসব স্মৃতি এখনও ভীষণ প্রিয়।’ এখন তারকা জীবনের কারণে আর সেই স্বাধীনতা নেই। তবু এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই বলেই জানালেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমি যে জীবন–যাপন করছি, সেটা তো বহু মানুষের স্বপ্ন। তাই না-পাওয়ার হিসেব না কষে প্রাপ্তির জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ।’
ছবির নামের মতোই ‘নেভার মাইন্ড’ শব্দবন্ধ নিয়েও তাঁর ভাবনা বেশ ইতিবাচক। জীবনে অনেক সময়ে এই দুটি শব্দ কষ্ট দিয়েছে, মন ভেঙেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি শিখেছেন, এই শব্দের মধ্যেই নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি লুকিয়ে থাকে। অভিনেত্রীর কাছে তাই বিষয়টা হাল ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং আবারও নতুন করে পথ চলা শুরু করা। নিজেকে আবেগপ্রবণ মানুষ বলেই পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, সম্পর্ক এবং কাজ—দু’টোই তিনি আবেগ ও ভালোবাসা দিয়েই সামলানোর চেষ্টা করেন।
অন্য দিকে, বড় পর্দায় এই ছবিকে নিজের কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলেই মনে করছেন অভিনেতা অমর্ত্য রায়। এর আগে বড় প্রযোজনার ছবিতে কাজ করলেও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর মতো অভিজ্ঞ অভিনেত্রীর সঙ্গে স্ক্রিন–শেয়ার করে নেওয়া তাঁর কাছে ছিল বড় দায়িত্ব। তবে সেই চাপকে তিনি ইতিবাচক ভাবেই গ্রহণ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘গোটা ইউনিটে সহযোগিতার পরিবেশ ছিল বলেই কাজটা অনেক সহজ হয়ে উঠেছিল। প্রত্যেক শিল্পী নিজের মতো করে চরিত্র গড়ে তোলার স্বাধীনতা পেয়েছেন, যা অভিনয়ের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’ পরিচালক হিসেবে প্রথমবার চৈতি ঘোষালের কাজে তাঁর ছেলে অমর্ত্যর অভিনয় করা প্রসঙ্গে তিনি জোড়েন, ‘সেটে আমাদের মধ্যে পরিচালক–অভিনেতার পেশাদারি সম্পর্কই থেকেছে। তবে মায়ের এক্সপেকটেশন বেশি, তাই খারাপ কাজ করলে অনেক বেশি বকুনি দেয়। আর ভালো কাজে তেমনই উৎসাহ।’
অভিনয়ের পাশাপাশি ফুটবলও অভিনেতার বড় ভালোবাসার জায়গা। ক্লাব ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে অমর্ত্যের। তাই ফুটবল বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ উঠতেই উচ্ছ্বাস লুকোননি তিনি। ইংল্যান্ডের প্রতি আলাদা টান থাকলেও প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসির হাতেই আবারও বিশ্বকাপের ট্রফি দেখতে চান বলে জানান। তাঁদের ছবি দর্শকদের কাছে এক অন্য রকম অনুভূতি পৌঁছে দিতে পারবে, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর মতোই আশাবাদী অমর্ত্য রায়ও।