গত মঙ্গলবার ভোররাতে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের ন্যাপথা পাইপলাইনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের (Haldia Fire) ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় তিনদিন কেটে গেলেও এখনও আতঙ্কে স্থানীয় মানুষজন। বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও বেশ কয়েকজন। তবে কীভাবে এতটা ভয়াবহ আগুন লাগল? তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গড়ল জেলা প্রশাসন। এরপরেই আজ, বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। কীভাবে এই আগুন তা সরজমিনে খতিয়ে দেখেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকেও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেন আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, তদন্ত কমিটি গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেবে। এরপরেই যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে ঘটনার কয়েকদিন কেটে গেলেও স্থানীয়দের চোখেমুখে এখনও আতঙ্ক। নিরাপত্তার কারণে এখনও বাড়িতে গ্যাস জ্বালানো বন্ধ রেখেছেন চিরঞ্জীবপুর ও শান্তি বসতির বাসিন্দারা। বন্ধ রান্নাও। এহেন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে এলাকায় বিশেষ ক্যাম্প খোলা হয়েছে। সেখানেই দু’বেলা খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও এখনও পুরোপুরি ঝুঁকি কাটেনি। ঘটনাস্থলে এখনও জল দিয়ে পাইপ ঠান্ডা রাখার কাজ চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জায়গায় ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, সেই এলাকা দিয়ে একাধিক শিল্প কারখানার পাইপলাইন গিয়েছে। তাই মেরামতিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি ভয়াবহে অগ্নিকাণ্ডে ট্রেন চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় ওভারহেড তার। এমনকী লাইনও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও বুধবার রাত থেকেই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, রাতে হলদিয়ায় পৌঁছায় দূরপাল্লার আনন্দ বিহার এক্সপ্রেস। বৃহস্পতিবার সকালে হলদিয়া-হাওড়া ও আসানসোল-হলদিয়া ট্রেন হাতিবেড়িয়া স্টেশনে প্রবেশ করে। বলে রাখা প্রয়োজন, মঙ্গলবার হঠাৎ করেই হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের ন্যাপথা পাইপলাইনে আগুন লেগে যায়। দাহ্য পদার্থ হওয়ায় মুহূর্তে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঝলসে আহত হন অন্তত ১৯ জন। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িও সম্পূর্ণ আগুনের গ্রাসে চলে যায়।