প্রতিবন্ধী কোচের শৌচাগারে হঠাৎই অগ্নিকাণ্ড। আগুন দেখে প্রথমে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে অনেকে নাশকতার চেষ্টা বলে মনে করেছিল। কিন্তু তদন্তে উঠে এল অন্য চিত্র। শৌচাগারে বিড়ি খেয়ে প্লাস্টিকের ঢাকনায় ঘষে তা নেভাতে গিয়েই আগুন লেগেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে হাঁটার ধরন বিশ্লেষণ করে পূর্ব রেলের রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২১ জুন। বারহারোয়া স্টেশন থেকে ৫৩৪৩৪ ডাউন বারহারোয়া-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জরুরি চেন টানা হয়। খবর আসে, ইঞ্জিনের পরের দিব্যাঙ্গ কোচের শৌচাগার থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। আরপিএফের এসআই লাল বাহাদুর মাঝি এবং কনস্টেবল মৃত্যুঞ্জয় কুমার ও অনিল কুমার ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, ওয়েস্টার্ন কমোডের ফাইবারের ঢাকনাটি মেঝেতে জ্বলছে। কিন্তু সেখানে কোনও দাহ্য পদার্থের চিহ্ন বা গন্ধ ছিল না। ফলে আগুনের উৎস নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়।
জানা গিয়েছে, আরপিএফের কর্মীরা যখন আগুনের উৎস সন্ধানে ব্যস্ত সেই সময়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। বারহারোয়া আরপিএফ রেলওয়ে আইনের ১৫৩ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বারহারোয়া ও সাহেবগঞ্জ স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। যদিও কোথাও অভিযুক্তের ট্রেনে ওঠার দৃশ্য স্পষ্ট ছিল না। তবু সন্দেহভাজনের পোশাক ও হাঁটার ধরন বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা একটি সূত্র পান। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের নির্দেশে আরপিএফ গোপন সূত্রে নজরদারি চালায়। শেষ পর্যন্ত ২৯ জুন সাহেবগঞ্জ স্টেশনে একই ট্রেনে ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেরায় অভিযুক্ত জানিয়েছে, শৌচাগারে বিড়ি খাওয়ার পরে প্লাস্টিকের ঢাকনায় ঘষে তা নেভানোর চেষ্টা করতেই আগুন ধরে যায়। ভয় পেয়ে ধীরে চলতে থাকা ট্রেন থেকে নেমে সে পালিয়ে যায়। পরে তাকে সাহেবগঞ্জ আদালতে তোলা হয়। সেখানে বিচারক অভিযুক্তের ২৪ জুলাই পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ট্রেনে ধূমপান দণ্ডনীয় অপরাধ। সেই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তার পক্ষেও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এ ধরনের ঘটনায় কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না।