গতকাল রাতে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী। সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ অভিষেক ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেও শোনা যায়৷ ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই দেবরাজ-অদিতিকে নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেছিলেন তরুণজ্যোতি তিওয়ারি৷ দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার হওয়ার পর কী বললেন তরুণজ্যোতি?
তরুণজ্যোতি বলেন, "দেবরাজ গ্রেফতার খবরটা জানার পরেই আমার প্রথম প্রসেনজিৎ এর কথা মনে পড়েছিল৷ প্রসেনজিৎ আমাদের একজন কার্যকতা ছিল৷ তাঁর দোষ সে বিজেপি করত৷ তাঁর মা অনিমা কাকিমার স্বামী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত৷ হরিচাঁদপল্লীতে একটা ছোট এক কামরার ঘরে থাকেন৷ বিজেপি করত সেই অপরাধে প্রসেনজিৎকে ওঁর বাবা মা ভয়ে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। দেবরাজের লোকজন ওঁর বাবা মাকে মারধর করে৷ এক দেড় ঘণ্টা তাণ্ডব চালায়, বাড়িঘর ভাঙচুর করে৷ তারপর বলে তোদের মেরেছি, ছেলেকে মারব না নিয়ে আয়৷ আরেকদিন বলে ছেলেকে নিয়ে আয়, কিছু করব না৷ ভরসা পেয়ে তারা ছেলেকে নিয়ে এল। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে মেরে গামছা দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হল৷"
"তখন কোভিডের সময়, লকডাউন। প্রসেনজিৎ এর মা পরিচারিকার কাজ করতেন৷ প্রসেনজিৎ মারা গেছে, বাবার প্যারালাইসিস, ভ্যাকসিন নিতে গিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ এর মা৷ সেখানেও তাকে ভ্যাকসিন না দিয়ে লাথি মারা হয়, মারধর করা হয়৷ বলা হয়, দেবরাজের নামে মামলা করে ভ্যাকসিন নিতে এসেছিস!" তরুণজ্যোতির সংযোজন৷
তরুণজ্যোতি বলেন, "গতকাল দেবরাজ গ্রেফতার হতে আমার প্রথম কাকিমার মুখ মনে পড়েছে৷ ভোটপ্রচারে যখন ওদের বাড়ি গিয়েছিলাম, দেখলাম একটা ছোট ঘরে আলো জ্বলছে, প্রসেনজিৎ এর একটা ছবি, ধূপকাঠি জ্বলছে৷ কাকিমা কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, আমার বিচার চাই৷ পাড়ার লোকেরাও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি।"
তরুণজ্যোতি বলেন, "দেবরাজ চক্রবর্তী কে? পূর্ণেন্দু বসুর আপ্তসহায়ক, ২০১৫ সালে প্রথম চুরির দায়ে জেলে যাওয়া, তার আগে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিল৷ জিতলে সকলে যেমন তৃণমূল হয়ে যায় ও তৃণমূল হয়ে গেল৷ ভাইপোর ( অভিষেক ব্যানার্জি) সুনজরে পড়ল। উত্তর ২৪ পরগণা মোটামুটি ওই কন্ট্রোল করত৷ কয়লার লাইন গরুর লাইন ওই দেখত, ওখান থেকেই প্রতিপত্তি৷ কাউন্সিলর, মেয়রের কাউন্সিল, অদিতির বিধায়ক হওয়া, ১৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তি। "
তরুণজ্যোতি বলেন, "সকলে বলেন অদিতি কিছু জানে না৷ আমি অদিতিকে আক্রমণ করব না৷ বাচ্চার জন্যই অদিতি বাইরে আছে৷ মা-ও কম নয়৷ বাপ চোর, মা চোর বাচ্চাটা অন্তত মানুষ হোক এটুকুই প্রার্থনা করি৷ আমিও একটা বাচ্চার বাবা৷ প্রসেনজিৎকে হারিয়েছে ওর মা৷ কাকিমার একজন মা, অদিতির নামেও সম্পত্তি আছে৷ অদিতি জানত না এমন নয়। ২০২২ সালের ভোটে অদিতি দাঁড়িয়ে থেকে ছাপ্পা করিয়েছিল৷ আমাদের এক বোন সরস্বতী বিশ্বাস ওকে বলেন, যে দিদি আপনাকে তো ভদ্র মনে করতাম, আপনি কীর্তন গান, ওর অনুরোধে পাত্তাই দেয়নি অদিতি৷ "
সারেগামাপায় থাকাকালীন অদিতির কিছু গোপন কথাও তরুণজ্যোতি জানেন বলে দাবি করেন৷ কিন্তু ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে কালিমালিপ্ত করতে চান না বলে কিছু বলতে চাইছেন না৷ তবে তরুণজ্যোতি বলেন, "আমি সবার সবটা জানি৷ অদিতিদেবীর ইতিহাস ভূগোল জানি৷ যখন তিনি ওই মঞ্চে গান করছিলেন, সারেগামাপা একটা ভার্সেটাইল মঞ্চ, সেখানে এক ধরনের গান করে এগিয়ে যাচ্ছেন, যদিও গানটা ভাল করেন, এমনি এমনি তো হয় না, সকলেই জানেন৷ অদিতিদেবী ভাবতে থাকুক কী কী তথ্য আমার কাছে থাকতে পারে৷ নিশ্চিন্তে থাকুন, আমি প্রকাশ্যে আনব না৷ সেইসঙ্গে ওয়েস্টিনে দেবরাজের অনেক চ্যাপ্টারও পাবলিক করব না৷"
তরুণজ্যোতি বলেন, "উনি আমাকে হিন্দুশাস্ত্র শেখাচ্ছিলেন তাহলে আগাম জামিন চাইলেন কেন? হিন্দুমতে স্বামী স্ত্রী একসঙ্গে থাকে, স্বামী জেলে গেলে উনিও যাবেন, মিষ্টিভাষী উনি, অনেক কিছু বলেছিলেন৷ তাহলে যান কেন যাচ্ছেন না? জানতে ইচ্ছা হয়নি পাহাড় কেনা এত সম্পত্তি কোথা থেকে আসছে? আসলে পুরোটাই কথা আর কাহিনী৷ "
"অদিতি আসলে মুখোশ, মুখ দেবরাজ চক্রবর্তী। আমাকে ট্রোল করা হয়েছিল আমি সারাদিন দেবরাজ দেবরাজ করছি৷ হ্যাঁ আমি করেছি কারণ আমার প্রতিপক্ষ দেবরাজ, অদিতি ছিল না। যেদিন নির্বাচনের ফল ঘোষণা হল, সেদিন যদি আমি হাত তুলে দিতাম, দেবরাজ খবর হয়ে যেত৷ আমি সেন্ট্রাল ফোর্স দিয়ে ওদের কাউন্টিং এরিয়া থেকে সুরক্ষিত ভাবে বার করে দিয়েছিলাম। আমি আইনজীবী, আমি আইনে বিশ্বাস করি৷ আইনে শাস্তি হবেই। দেবরাজের দুর্ভাগ্য যে ওর মামলার অভিযোগকারীর নাম তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। জেল হয়েছে বেল পেতে পারে৷ তবে কেসের ট্রায়াল যাতে তাড়াতাড়ি হয় তার জন্য যা করার আমি করব। এর শেষ দেখে ছাড়ব৷"