আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটি বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে শতাধিক বিঘার বিল অবৈধভাবে হাতিয়ে সেখানে মাছ চাষ করে বাজারে বিক্রি করার অভিযোগ উঠল মুর্শিদাবাদের নওদার 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে হুমায়ুন কবীর এবং তাঁর কয়েকজন সহযোগী গত প্রায় এক বছর ধরে ওই বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তাদের কাছ থেকে নিজে নেওয়া একটি বিলে বেআইনিভাবে মাছ চাষ এবং সেখান থেকে মাছ ধরে বিক্রি করছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বহরমপুরে হুমায়ুন কবীর সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ করেন, আজ ভোররাতে শক্তিপুর থানার বেশ কিছু আধিকারিক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরকে নিয়ে চন্দনপুর বিল থেকে তাঁর নিযুক্ত করা জেলেদের ধরা কয়েক লক্ষ টাকার মাছ স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন। সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীর এটি নথি দেখিয়ে দাবি করেন, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ওই বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে তাঁর ১০ বছরের চুক্তি হয়েছিল। তাঁকে ২০৩২-৩৩ অর্থবর্ষ পর্যন্ত চন্দনপুর বিল থেকে মাছ ধরার অনুমতি দিয়েছিল ওই বেসরকারি কোম্পানি।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হুমায়ুন কবীরকে ওই বেসরকারি কোম্পানিকে প্রত্যেক বছর সাত লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। এর পাশাপাশি প্রত্যেক তিন বছর অন্তর অতিরিক্ত আরও ৫% টাকা দেওয়ার কথা। যদিও অভিযোগ উঠেছে,ওই বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে হুমায়ুনের চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের পয়লা জুলাই শেষ হয়ে গেলেও হুমায়ুন কবীর এবং তাঁর কয়েকজন সহযোগী 'গায়ের জোরে' চন্দনপুর বিল থেকে মাছ ধরছিলেন এবং সেই মাছ বাজারে বিক্রি করছিলেন।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, চন্দনপুর বিল হুমায়ুনের দখলে থাকার দাবি নস্যাৎ করে জেলা পুলিশের এক আধিকারিক নিয়েছেন, ২০২৫ সালের পয়লা জুলাই ওই বেসরকারি কোম্পানির তরফ থেকে শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল তারা হুমায়ুন কবীর এবং জনৈক নাজেম শেখের সঙ্গে তাদের হওয়া চুক্তি বাতিল করছেন। ওই চিঠিতেই বেসরকারি কোম্পানির তরফ থেকে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে জানানো হয়েছে, হুমায়ুন কবীর এবং নাজেম চুক্তির শর্ত অনুযায়ী টাকা না দেওয়াই তারা দু'জনের সঙ্গে হাওয়া 'এগ্রিমেন্ট' বাতিল করছেন। সূত্রের খবর, এই বেসরকারি সংস্থার অধীনে থাকা ২৮০ বিঘা আয়তনের বিলের লিজের মেয়াদ এক বছর আগে শেষ হলেও হুমায়ুন কবীর ওই বিলে মাছ চাষ করা এবং সেখান থেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করা বন্ধ করেননি। এর পাশাপাশি ওই বিলের কাছে কিছু স্থায়ী কাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রত্যেক বছর ওই বিল থেকে প্রায় কোটি টাকার মাছ বাজারে বিক্রি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন," চন্দনপুর বিল থেকে মাছ ধরার চুক্তি ওই বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে আমার হয়েছিল। অন্য কোনও ব্যক্তির নাম ওই চুক্তিতে ছিল না। নাজেম শেখ ওই বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে আলাদা করে ৫০ বিঘা জমি লিজে নিয়ে সেখানে আম চাষ করেন।" হুমায়ুন আরও বলেন,"একসময় নাজেম ওই বিল থেকে আমার হয়ে মাছ ধরা এবং মাছ চাষের কাজ দেখাশোনা করত। কিন্তু নাজেম মাছ চুরি করা শুরু করায় আমি তাঁকে এই কাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে আমার পরিবারের লোকেরা এই কাজ দেখাশোনা করেন।" এরপরই হুমায়ুন কবীর দাবী করেন," আমার সঙ্গে ওই বেসরকারি সংস্থার চুক্তি ভঙ্গের কোনও নোটিশ আজ পর্যন্ত তারা আমাকে দেয়নি। ওই বেসরকারি সংস্থা জেনারেল ম্যানেজার আমার সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন ,তারপর তিনি মারা যান। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আমার কিছু জানা নেই। "
হুমায়ুন ফের একবার দাবি করেন ,"২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওই বিল থেকে আমার মাছ ধরার অধিকার রয়েছে। কিন্তু গায়ের জোরে পুলিশ প্রশাসন সেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আজ ওই বিল থেকে যে মাছ তোলা হয়েছিল পাঁচটি বাজারে বিক্রি করার জন্য তা সব পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সাধারণ মানুষের মধ্যে মিলিয়ে দিয়েছে।"