• মহিলা সেজে লিভ ইন, দাড়ি কাটতে গিয়েই সব ফাঁস! পরে ধাওয়া-ব্ল্যাক মেল, রাজকোটের খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য
    এই সময় | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন দুনিয়ায়। আর তাতে দাঁড়ি পড়ল রেললাইনের ট্র্যাকে। ফেসবুকের পাতায় ‘নিশা’ আর ইনস্টাগ্রামে ‘পুনম’ আইডি-এর পিছনে লুকিয়ে ছিল এক গভীর সত্য। কিন্তু মনে কোনও ধন্দ না রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই আইডির পিছনে থাকা মানুষটিকেই ভালোবেসে ফেলেছিলেন পীযূষ কুমার খাড়ওয়ার। উত্তরপ্রদেশের ২০ বছরের যুবক ভাবতেও পারেননি, যে মানুষকে তিনি ভালোবেসে স্বপ্ন বুনছেন, আসলে তাঁর অস্তিত্বটাই ভুয়ো! প্রেয়সীর সিঁথি ভালোবাসার রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার পরেও বোঝেননি তাঁর আসল পরিচয়। যখন বুঝলেন তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। ফলে বিশ্বাসভঙ্গের পরিণতি হলো সাংঘাতিক ভয়ঙ্কর।

    গত ২৫ জুন রাজকোটের রেললাইনে মেলে একটি পচাগলা দেহ। মহিলার পোশাক পরা হলেও দেহটি ছিল পুরুষের। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুটিকে দুর্ঘটনাজনিত বলে মনে করা হলেও, ময়নাতদন্তে মৃতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই পীযূষ কুমার খাড়ওয়ারের সন্ধান পায় পুলিশ। খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। অভিযুক্তের বয়ানে উঠে এল প্রেমে প্রতারণার এক ট্র্যাজিক কাহিনি।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের বাসিন্দা চন্দন কুমার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মহিলার নামে অ্যাকাউন্ট খোলেন। সেই আইডির পিছনে আসলে যে একজন পুরুষ রয়েছে, তা না বুঝেই পীযূষ তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সেই ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে, প্রেম পর্ব আমসত্ত্বের মতো জমাট বাঁধার আগেই ধর্মীয় আচার মেনে সেই আইডি-র পিছনে থাকা মানুষকে নিজের স্ত্রী হিসেবেও স্বীকার করে নেন।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘নিশা’ নামে প্রোফাইল খুলে পীযূষের সঙ্গে প্রেমের খেলা শুরু করেছিলেন চন্দন নামের এক যুবক। মহিলা সেজেই পীযূষের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। সেই দেখাতেও পীযূষের প্রেমের নেশা কাটেনি বরং আরও গভীর হয়েছিল। পীযূষের বিয়ের প্রস্তাবেও রাজি হয়ে যান চন্দন। সিঁদুর পরিয়ে বিয়ের পরে হায়দরাবাদে এক ছাদের নীচে ঘরও বাঁধেন। কিন্তু প্রথম ধাক্কা আসে ফুলশয্যার রাতে। শারীরিক ঘনিষ্ঠতা এড়াতে চন্দন ধর্মীয় ব্রত বা নিয়মের অজুহাত দেন। শুধু সেই রাতেই নয়, এর পরে যে কদিন পীযূষের সঙ্গে তিনি ছিলেন প্রতিদিনই পুজো বা অন্য কোনও বাহনায় ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে যেতেন। পীযূষ তখনও বুঝতে পারেননি, নিয়তি তার জন্য কী ভয়ঙ্কর সত্য লুকিয়ে রেখেছে।

    অভিযুক্ত জানান, একদিন আচমকাই সেই মিথ্যের দেওয়াল ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। পীযূষ ঘরে ঢুকে দেখেন, যাকে তিনি নিজের স্ত্রী বলে জানতেন, সেই ‘নিশা’ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাড়ি কাটছেন। মুহূর্তে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায় পীযূষের। তিনি বুঝতে পারেন, যাকে নারী ভেবে ছিলেন, সে আসলে একজন পুরুষ।

    অভিযুক্তের কথায়, ‘এই চরম সত্য সামনে আসার পর থেকেই শুরু হয় সম্পর্কের এক দমবন্ধ করা অধ্যায়।’ পীযূষ এই অস্বাভাবিক এবং প্রতারণার সম্পর্ক থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন। কিন্তু চন্দনের দাবি ছিল, সে পীযুষকে ছাড়া বাঁচবে না। তাঁর ভালোবাসা বা জেদ এতটাই অন্ধ ছিল যে, তিনি কিছুতেই পীযূষকে ছাড়তে রাজি ছিলেন না। ভাঙন এড়াতে রীতিমতো ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন।

    এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে হায়দরাবাদ ছেড়ে উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং শেষে গুজরাটের রাজকোটে চলে আসেন পীযূষ। কিন্তু চন্দন পিছু ছাড়েননি ছায়ার মতো তাকে তাড়া করে বেরিয়েছেন। যেখানেই পীযূষ গিয়েছেন, চন্দন সেখানেই হাজির হয়েছেন। এর পরেই চরম পদক্ষেপ নেন পীযূষ।

    ​পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ২১ জুন দুজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। চন্দনের হাত থেকে মুক্তি পেতে রাগের মাথায় পীযূষ তাঁকে একটি নির্জন রেললাইনের ধারে নিয়ে গিয়ে ভারী পাথর দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করেন। সেখানেই মৃত্যু হয় চন্দনের। প্রমাণ লোপাটের জন্য লাশটি রেললাইনের ধারে পাথরের নীচে চাপা দিয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে কাজে ফিরে যান পীযূষ। পচাগন্ধ পেয়ে গত ২৫ জুন স্থানীয়রা খবর দেয় পুলিশে। রেললাইনের ধার থেকে চন্দনের পচাগলা দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় শেষ পর্যন্ত পীযূষের সন্ধান পায় পুলিশ ও তাঁকে গ্রেপ্তার করে। জেরায় নিজের দোষ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

  • Link to this news (এই সময়)