টাকাপয়সা, মোবাইল ফোন কিচ্ছু না। বাবার বাজারের ব্যাগে শুধু একটি সাদা পুরোনো চাদর নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন অমৃতা। এ কথাটা মনে পড়লেই আঁতকে উঠছেন বাবা অর্ধেন্দু সিনহা! গত তিন মাস ধরে কত রকম ভাবে মেয়েকে খোঁজাখুঁজি করেছেন। কিন্তু তাঁর হদিশ পাওয়া তো দূর অস্ত, এখনও পর্যন্ত কোনও নির্ভরযোগ্য সূত্রও মেলেনি। পুলিশের তদন্তও যেন আটকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কার্যত মুষড়ে পড়েছে গোটা পরিবার।
গত ১৩ মার্চ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি বছর চব্বিশের তরুণী অমৃতা। অর্ধেন্দু জানান, সে দিন বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়ে অমৃতার হাতে শুধু একটি বাজারের থলে ছিল। কিন্তু কী ছিল, তা প্রথমে ধন্দে ছিলেন মা-বাবা। পরে তাঁরা বুঝতে পারেন, মেয়ে টাকাপয়সা, মোবাইল ফোন, ব্যাঙ্কের পাসবই, এটিএম কার্ড বা অন্য কোনও নথি নিয়েই বেরোয়নি। ওই ব্যাগে শুধু ঠাকুমার একটা পুরোনো চাদর ছিল। অর্ধেন্দু বলেন, ‘চাদরটা আমার মায়ের ছিল। কিন্তু এমনও নয় যে, সেটা ওর খুব প্রিয় ছিল। ওটা ব্যবহারই হতো না। ব্যবহার না হতে হতে সেটার রং হলুদ হয়ে গিয়েছিল। আমরা তো বুঝতেই পারছি না, কেন শুধু ওটা নিয়ে গেল মেয়ে!’
অনেক ভেবেও শুধু একটা পুরোনো চাদর নিয়ে ঘর ছাড়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না অর্ধেন্দু। কখনও তাঁর মনে হচ্ছে, হয়তো লজ্জা নিবারণের জন্য মেয়ে ওই চাদরটা নিয়ে গিয়েছে। আবার পরক্ষণেই তাঁর মনে হচ্ছে, ঘরের অন্য চাদরও তো নেওয়া যেত। একমনে বৃদ্ধ বাবা বলে চলেছেন, ‘এই কথাটাই আমাকে খুব ভাবাচ্ছে। এই একটা চাদর নিয়ে যে মেয়েটা কোথায় গেল! আর কিছুই তো নেই ওর সঙ্গে। টাকাপয়সাও নেই। কোথায় কী ভাবে আছে, কে জানে।’
পুলিশ অবশ্য তার মতো করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার অর্ধেন্দু এবং তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা দুর্গাপুর বিসি রায় কলেজে যান। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই কলেজে পড়াশোনা করেছেন অমৃতা। সেখানে তাঁর বান্ধবী, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা এবং প্রিন্সিপালের সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ। তবে তদন্তকারীদের সূত্র জানিয়েছে, এত লোকের সঙ্গে কথা বলার পরেও কলেজ থেকে কোনও নির্ভরযোগ্য সূত্র মেলেনি।