পিঠে ব্যাগ নিয়ে গুটি গুটি পায়ে সেই প্রথম স্কুলে পা রাখা। মিশুকে ছেলেটা সহজেই মানিয়ে নেয় স্কুলের পরিবেশ। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলো, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বকাবকি, পড়াশোনা, দুষ্টুমি, স্কুলের ইভেন্ট— সব মিলিয়ে গোটা শৈশবকাল কেটেছে মধ্যমগ্রামের নব নালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠে। শিক্ষিকারাই বলছেন, দীপ্তাংশু ছিল এক ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’। স্কুল বদল করে আরও ভালো শিক্ষালাভের জন্য নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ভর্তি হয় সে। স্কুলজীবনের প্রথম শিক্ষক-শিক্ষিকারা চেয়েছিলেন, আরও বড় হোক দীপ্তাংশু, আরও পথ চলা বাকি। কিন্তু এই ধরাধামে দীপ্তাংশুর যাত্রা এ ভাবে শেষ হয়ে যাবে, ভাবতেই পারছেন না তাঁরা।
মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা দীপ্তাংশু মাহাতো ছোটবেলা থেকে পড়ত নব নালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠে। মঙ্গলবারের ঘটনা শোনার পর থেকেই বাকরুদ্ধ সেই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা। কী করে এত বড় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক পড়ুয়ার মৃত্যু হয় এ হেন ‘অবহেলা’ কারণে, প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরাও। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মিতা রায় বলেন, ‘এমন একটা প্রতিষ্ঠান, যেখানে ভর্তি হওয়ার জন্যে পড়ুয়াদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা থাকে, সেটাকে অতিক্রম করে সে ভর্তি হয়েছিল। মা-বাবার অনেক আশা-আকাঙ্খা ছিল। আমাদেরও আশা ছিল, ও আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে।’
তবে গত মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলে ঘটে ভয়ঙ্কর ঘটনা। শিক্ষকদের ফ্লাস্ক থেকে গরম চা খেয়ে ফেলেছিল দীপ্তাংশু। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই তার মৃত্যু হয়। সহপাঠী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দীপ্তাংশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না পুরোনো স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। শিক্ষিকা মিতা রায় বলেন, ‘ও কোনও কেয়ার ভালোভাবে পায়নি, ফ্লাস্ক থেকে চা খেয়ে এমন হলো, মেনে নিতে পারছি না। আমিও একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। তাই বলতে পারি, দুর্ঘটনা হতেই পারে, কিন্তু সঠিক পদক্ষেপ করা উচিত ছিল।’
নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল দীপ্তাংশু। মঙ্গলবার ক্লাস শুরু হওয়ার আগে শিক্ষকদের একটি ফ্লাস্ক থেকে গরম চা খেয়ে ফেলে সে। এর কিছুক্ষণ পরেই দীপ্তাংশু অসুস্থ হয়ে শুরু করে। তাঁর পরিবার ও সহপাঠীদের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। তবে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, হস্টেলের চিকিৎসক ওই ছাত্রকে অবিলম্বে বাইরের কোনও হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললেও সেটা না–করে ছাত্রটিকে নিয়ে ওই দুই ওয়ার্ডেন স্কুলেই ছিলেন। ওই দু’জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে বুধবার স্কুলে ছাত্র ও অভিভাবকদের নিয়ে একটি আলোচনাসভা ডেকেছিলেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেখানে ক্ষোভ উগরে দেন পড়ুয়ারা। সোশ্যাল সাইটেও স্কুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক-অভিভাবিকারা