• দার্জিলিং ম্যালের অদূরেই হাড়হিম করা ঘটনা, নাতিকে বাঁচাতে প্রৌঢ়া লড়লেন চিতাবাঘের সঙ্গে
    এই সময় | ০২ জুলাই ২০২৬
  • আট বছরের নাতি আর প্রিয় পোষ্যকে বাঁচাতে চিতাবাঘের সঙ্গে প্রাণপণ লড়াই করলেন প্রৌঢ়া। কী ভয়ানক সে লড়াই। হাতে একখানা কাঠের টুকরো নিয়ে লড়ে গেলেন চিতাবাঘের সঙ্গে। দার্জিলিং ম্যালের কাছে ভুটিয়া বস্তিতে মঙ্গলবার বর্ষার সন্ধেয় একেবারে হাড়হিম ঘটনা। চিতাবাঘের হামলায় দেবিকা শেরপা নামে বছর ৫০-এর ওই প্রৌঢ়া গুরুতর জখম হন। সেই রাতেই তাঁকে দার্জিলিং জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। তাঁর একটি হাত ভেঙে গিয়েছে। চোট পেয়েছেন মাথায়ও। অন্য হাতটিও চিতাবাঘের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত। তবে আঁচ আসতে দেননি ছোট্ট নাতি আর প্রিয় কুকুরের গায়ে। তাঁর লড়াইয়ের সামনে পড়ে পিছু হঠতে বাধ্য হয় তেজি চিতাবাঘও। তবে চিতাবাঘটি পালিয়ে গেলেও ফের হামলা করতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই বনদপ্তর থেকে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা চিতাবাঘটিকে ধরার দাবি জানিয়েছেন।

    দার্জিলিং ম্যালের কাছেই ভুটিয়া বস্তি। ম্যালের যে দিক থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়, সে দিকেই নীচের দিকের রাস্তা ধরে কিছুটা এগোলে ভুটিয়া বস্তি। ম্যাল পেরিয়ে সে পথে নামলে জঙ্গলঘেরা চারদিক। সামনেই সিঞ্চল বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য। আশপাশে কিন্তু জঙ্গলে ঘেরা।

    খুব কাছেই রয়েছে সিঞ্চল ওয়াইল্ডলাইভ স্যানচুয়ারি (Senchal Wildlife Sanctuary)। ম্যালের আশপাশেও রয়েছে জঙ্গল। ফলে সন্ধের পরে ম্যালের আশপাশে বুনো জীবজন্তুর আনাগোনা লেগেই থাকে। বিশেষ করে হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার এবং চিতাবাঘের হামলা নিয়মিত ঘটে। মঙ্গলবার ভুটিয়া বস্তিতে তেমনই একটি ঘটনা ঘটে।

    রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমোতে যাওয়ার তোড়জোড় করছিলেন দেবিকা শেরপা। ওই বাড়িতে নাতিকে নিয়ে একাই থাকেন তিনি। ছেলে, বৌমা কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন। সে দিন তখনও দরজা বন্ধ করেননি। বাড়ির কুকুরটি বাইরে বড্ড বেশি ডাকছিল। যা শুনে বেরিয়ে আসেন তিনি। পিছু পিছু আসে ছোট্ট নাতিও।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আচমকাই অন্ধকার থেকে চিতাবাঘটি উঠোনে চিৎকার করতে থাকা কুকুরটির উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সামনে পড়ে থাকা জ্বালানি কাঠের টুকরো হাতে নিয়ে দেবিকাও পাল্টা চিতাবাঘের দিকে ধেয়ে যান। চিতাবাঘটি সঙ্গে সঙ্গে কুকুরকে ছেড়ে দেবিকার দিকে ধেয়ে যায়। ভয় পেয়ে তাঁর নাতি তাঁকে জড়িয়ে ধরে। এমন পরিস্থিতিতেও তিনি কাঠের টুকরোটি দিয়ে সমানে চিতাবাঘটিকে আঘাত করতে থাকেন। একটা সময়ে চিতাবাঘটি দেবিকা ছেত্রীকে ছেড়ে দিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।

    দেবিকার চিৎকার শুনে গ্রামের লোকেরা ছুটে আসেন। ততক্ষণে চারপাশের কুকুরগুলি তারস্বরে চেঁচিয়ে চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাই ওই প্রৌঢ়াকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। বৃহস্পতিবার দেবিকা শেরপা বলেন, ‘চিতাবাঘটি যখন হামলা করে তখন নাতিকে কী করে রক্ষা করব সেটাই মাথায় ছিল। আর কিছুই মনে নেই।’

    তবে এমন অসম লড়াইয়ের ময়দানে দেবিকা যে ভাবে লড়ে গেলেন, তাঁর এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলে।

  • Link to this news (এই সময়)