আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল নেতাকে জুতোপেটা বিক্ষুব্ধ জনতার। অর্থ ফেরতের দাবিতে দলের নেতাদের গণপিটুনি দিলেন তাঁরা। এই ঘটনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা (Patharpratima) ব্লকের দক্ষিণ রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, মহিলাদের কটূক্তি করায় বারাসতে এক তৃণমূল কর্মীকে কান ধরে ওঠবস ও পা ধরে ক্ষমা চাওয়ানো হয়। সেই ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে দক্ষিণ রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভে শামিল হন গ্রামবাসীরা। দীর্ঘ আলোচনার পর বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা অনন্ত হালদারকে একটি দোকান থেকে ধরে এনে জুতোপেটা করেন। পরে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সুশান্ত দাস (কিরণ), উপপ্রধান ও অন্যান্য সদস্যদের উপরও চড়াও হয়ে গণধোলাই দেন উত্তেজিত জনতা। জনরোষের মুখে পড়ে আহত হন সুশান্ত। ঘটনার খবর দেওয়া হয় ঢোলাহাট থানায়। পুলিশ এসে আক্রান্তদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, বারাসতে তৃণমূলের এক কর্মীকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সেই ভিডিও ভাইরাল। ওই ভিডিওতে তাঁকে এক মহিলার পা ধরে ক্ষমা চাইতে দেখা গিয়েছে। জানা যায়, কয়েকবছর আগে ওই তৃণমূল কর্মী মহিলাদের উদ্দেশে কটূক্তি করেছেন। হুমকি দিয়েছেন। রাজ্যে পালাবদলের পর বারাসতের নবপল্লি তরুণ দল ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় ওই মহিলার বাড়িতে এসে ক্ষমা চান তিনি।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পতন হয়েছে ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের। রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এরপর থেকে দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল নেতাদের জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। দলের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে ডিম। এই আবহে পাথপ্রতিমায় গণধোলাই দেওয়া হল তৃণমূল নেতাদের।