নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। এই বৈঠককে ‘বেআইনি এবং অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। তাদের অভিযোগ, অমিত শাহের কথাতেই ‘নিয়ম-বহির্ভূত’ ভাবে ঋতব্রতদের ডেকেছিল কমিশন। শাহের বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর রাজনীতির অভিযোগ তুলে তার সঙ্গে এই বৈঠককে মিলিয়ে দেখতে চেয়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। এ প্রসঙ্গে টেনে আনা হয়েছে রামমন্দিরে অনুদান চুরি নিয়ে বিতর্ককেও।
ঋতব্রত, সন্দীপন সাহা-সহ মোট ১০ জন বিধায়কের জ্ঞানেশ-সাক্ষাতের পরেই দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতার শিবিরের দুই সাংসদ সৌগত রায় (লোকসভা) এবং সাগরিকা ঘোষ (রাজ্যসভা)। সৌগতর অভিযোগ, জ্ঞানেশের মাধ্যমে শাহ-ই এখন কমিশন চালান। ঋতব্রতদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠকও হয়েছে তাঁর কথাতেই। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘অমিত শাহ দল ভাঙানোর খেলায় মেতেছেন। রামমন্দিরের টাকাও নিয়ে নিয়েছে। ওই টাকাতেই তো দল ভাঙানোর খেলা চলছে।’
এ বিষয়ে বিজেপির মুখপাত্র বিমলশঙ্কর নন্দ বলেন, ‘ওরা নিজেরা নিজেদের সঙ্গে মারামারি করে বেড়াচ্ছে, এর মধ্যে বিজেপি কোথা থেকে এল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত, আগে নিজের দল সামলানো। তার পরে অন্যের দিকে আঙুল তুলুন উনি। রামমন্দির নিয়ে এত কথা বলছে কেন? উত্তরপ্রদেশ সরকার তো কড়া পদক্ষেপ করেছে। সেটা দেখুন। এ সব করে কিচ্ছু হবে না। যত এ রকম অভিযোগ করবে ওরা, ওদের অবস্থা তত খারাপ হবে।’
‘বিদ্রোহী’দের সঙ্গে কমিশনের বৈঠককে কেন তাঁরা বেআইনি এবং অসাংবিধানিক বলছেন, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সৌগতরা। তাঁদের বক্তব্য, কমিশনই জানিয়েছিল, কোনও রাজনৈতিক দলের স্বীকৃত প্রতিনিধিরাই শুধু কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে পারবে। তা হলে ঋতব্রত-সন্দীপন দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও কেন তাঁদের ডাকা হলো? সাগরিকা বলেন, ‘কমিশন তো এখন বিজেপির হাতে। একটা অবিন্যস্ত টিম নিয়ে গিয়ে ওরা দেখা করে এসেছে। এই বৈঠক বেআইনি ও অসাংবিধানিক।’ সৌগতও বলেন, ‘ওরা কী করে কমিশনের সঙ্গে দেখা করার সময় পেল? যে নেতাদের তৃণমূল বহিষ্কার করেছে, তারা কেন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করবে? কমিশনই তো জানিয়েছিল, শুধু স্বীকৃত প্রতিনিধিরাই দেখা করতে পারে। আমরাই তো ঠিক করব কে আমাদের প্রতিনিধি।’
প্রসঙ্গত, কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পরে বাইরে বেরিয়ে ঋতব্রত বলেন, ‘কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে দীর্ঘ ক্ষণ কথা হয়েছে। আমরাই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক, কাউন্সিলার এবং জেলার নেতারা আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। স্পেশাল সেশনের পরে ২৩ তারিখে জানিয়েছিলাম কমিশনকে। আমরা আশাবাদী, কমিশন আমাদের সঙ্গে শীঘ্রই যোগাযোগ করবে।’