অফিস থেকে চা-পাতা ও বিস্কুট বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। এটাই ছিল অপরাধ। এক চুক্তিভিত্তিক পিয়নকে বরখাস্ত করা হয়েছিল অফিস থেকে। সেই কর্মীকে পুনর্বহালের নির্দেশ দিল ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ সত্য হলেও প্রায় ১৭ বছরের চাকরির পরে এমন সামান্য ঘটনার জন্য বরখাস্ত করা অত্যন্ত কঠোর এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি।
জানা গিয়েছে, রঞ্জিতকুমার হিমাংশু নামে এক কর্মী বোকারো জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা-তে ২০০৫ সাল থেকে চুক্তিভিত্তিক পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের মার্চ মাসে তাঁর বিরুদ্ধে অফিসের কিছু সামগ্রী ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সামগ্রী বলতে কিছু চা-পাতা ও বিস্কুট বোঝানো হয়েছিল, যা নোটিস পাওয়ার পরে তিনি ফেরতও দিয়েছিলেন।
কিন্তু এই অপরাধের জন্যেও খাঁড়া নেমে এসেছিল। ২০২২ সালের ২ মে তাঁর চাকরি বাতিল করে প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন হিমাংশু। এই ছোট অপরাধের জন্য কেন চাকরি চলে যাবে? আদালতের দ্বারস্থ হয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ওই কর্মী।
ঝাড়খণ্ড আদালতের প্রধান বিচারপতি এম. এস. সোনাক এবং বিচারপতি রাজেশ শঙ্করের ডিভিশন বেঞ্চ ওই মামলার রায়ে জানিয়েছে, শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘সামঞ্জস্যের নীতি’ (Doctrine of Proportionality)-র গুরুত্বের উপরে জোর দিয়েছে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছে।