• ফসলভর্তি জমির দিকে এগিয়ে আসছে গঙ্গা, সব হারানোর ভয়ে বর্ষার শুরুতেই হাহাকার 'এই' গ্রামে
    News18 বাংলা | ০২ জুলাই ২০২৬
  • বিগত প্রায় তিন দশকে গঙ্গা গর্ভে তলিয়েছে ১২ টি গ্রাম। দশ বছর আগে লাগাতার ভাঙনের জেরে ৪ কিলোমিটার এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়েছে। তবুও অধরা ভাঙন রোধের কাজ। ফি বছর‌ই বর্ষার মরশুমে জল বাড়লে শুরু হয় গঙ্গা ভাঙন। মালদহের মানিকচক ব্লকের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাহিটোলা, বালুটোলা, কামালতিপুর সহ নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলিতে আবার ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর থেকে কোথাও ১০০ মিটার দূরত্বে, আবার কোথাও বাড়ির দোরগড়ায় এসেছে নদীর জল।

    বর্ষা শুরুর আগে এবছর জল বাড়তেই আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে এলাহিটোলা গ্রামে। একের পর এক ফসলি জমি জলে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে গ্রামবাসীদের। নদী তীরবর্তী এলাকার এক গ্রামবাসী মহাম্মদ রেজাউল জানান, “ভাঙন সমস্যা দশকের পর দশক বছর ধরে। তবে প্রায় চার বছর থেকে ব্যাপক পরিমাণে ভাঙন হচ্ছে। আগের বছর এই এলাকায় ৯০০ মিটার কাজ হ‌ওয়ার কথা ছিল, তবুও হলনা। আবার এবছর ভাঙন শুরু হয়েছে। ফসলি জমি তলিয়ে যাবে, আবার কারও বাড়ি ভাঙতে হবে।

    নতুন সরকারের কাছে তাঁদের আবেদন ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ করা হোক। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মহাম্মদ আসিরুদ্দিন বলেন, “ভাঙনের বিষয়ে ব্লক থেকে জেলা প্রশাসন সব জায়গায় জানানো হয়েছে। গত বছর ভাঙন রোধের কাজের জন্য টেন্ডার হলেও কাজ হয়নি। আমরা আবার দাবি জানাবো জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিধায়কের কাছে।” এ বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক গৌড় চন্দ্র মণ্ডল জানান, আপাতত ভাঙন রোধের ছোট কাজ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, বাজেটে ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছর থেকে ১৬৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে স্থায়ী ভাঙন রোধে কাজ হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত কাজ শুরু হবে।” ইতিমধ্যে গত কয়েক দিনে জল বেড়ে কয়েক ফুট মাটি কেটে তলিয়েছে গঙ্গা গর্ভে। শত শত বিঘা পাট, সবজি সহ একাধিক ফসলি জমির গা ঘেঁষে বয়ে চলেছে গঙ্গা। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে আবারও ভয়াবহ ভাঙন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা। তাই তাদের দাবি দ্রুত ভাঙন রোধে কাজ করা হোক।
  • Link to this news (News18 বাংলা)