কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আদালতে বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করা সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি এ দিনের শুনানিতে জানান, আপাতত অবসরপ্রাপ্ত দুই বিচারপতির নেতৃত্বে অ্যাকাউন্টগুলো খুলে ন্যূনতম কাজ করার অনুমতি দিতে চায় কোর্ট। কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত এক ক্ষেত্রে কার্যকর করা যাবে না। তবে তার আগে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই বিরোধী শিবির তৈরি হয়। এর পরেই দলের তহবিল ফ্রিজ় করার দাবি জানিয়েছিলেন দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। তাঁর চিঠির ভিত্তিতে মোট তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করে পুলিশ। এর পরেই গত সোমবার সেই অ্যাকাউন্ট চালু করার দাবি জানিয়েছিল মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মামলারই শুনানি ছিল এ দিন।
শুনানিতে এ দিন মমতাপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি জানান, পুলিশ দিয়ে যে একটা সক্রিয় রাজনৈতিক দলকে পঙ্গু করা যায় এটা তার একটা উদাহরণ। যে দিন অভিযোগ হলো, তার পরের দিনই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় হয়ে গেল। ২৪ ঘণ্টাও লাগল না।
বিচারপতি জানান, অভিযোগ দায়েরের সময়টা কোর্টকে ভাবাচ্ছে। ২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অভিযোগ দায়ের করা হলো। পরের দিন সকালে ব্যাঙ্ক জানাল, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ়় করা হয়েছে। অথচ, অভিযোগ জানানোর আগে ওই অ্যাকাউন্ট নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও অপরাধের অভিযোগে উঠেনি। তা হলে হঠাৎ পুলিশ অভিযোগের পরে কোন ভিত্তিতে এত তড়িঘড়ি ফ্রিজ়় করার জায়গায় চলে গেল?
আদালতের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা জানান, পুলিশের তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। কী ভাবে এর মধ্যে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ‘সাইফন’ হয়েছে, সেই ব্যাপারে কোর্টকে রিপোর্ট দেবে পুলিশ। মেহেতা এটাও জানান, একটা দলের একাধিক নেতা আলাদা আলাদা বয়ান দিচ্ছেন। কে প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসে রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তা বিবেচনা না করে অ্যাকাউন্ট চালুর নির্দেশ দেওয়া ঠিক হবে না।
আদালত জানায়, ব্যাঙ্ককে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে কোন প্রেক্ষিতে তারা অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ়় করেছে এবং অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে। তার পরেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করবে কোর্ট।