• এ বার দিঘায় জগন্নাথের রথের রশি টানতে পারবে জনতাও, ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ বন্ধে সচেষ্ট প্রশাসন
    এই সময় | ০২ জুলাই ২০২৬
  • গত বছর রথের রশি টেনেছিলেন কেবল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৎকালীন রাজ্য সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অতিথি। সাধারণ ভক্তদের সেই রশি টানতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু এ বার যাতে সাধারণ মানুষও রথের রশিতে টান দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রায়। এমনই খবর প্রশাসনিক সূত্রে।

    গত ২৯ জুন দিঘার মন্দিরের ভিতরে একটি অস্থায়ী বেদি তৈরি করে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এ বারও শুরু হয়েছে রথযাত্রার প্রস্তুতি। রথের সংস্কার এবং ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে রথের কাঠামো দেখে নিতে চাইছেন দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্তারা। পুরীর মতো দিঘায় প্রতি বছর রথ নির্মাণ বা সংস্কার হয় না। তবে এই বছর তিনটে রথ নতুন করে রং করা হয়েছে। আপাতত ওই তিনটি রথ মূল মন্দিরের উত্তর দিকে রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আজ, বৃহস্পতিবার ২ জুলাই সেখান থেকেই তিনটে রথের মহড়া চলবে। মহড়া চলাকালীন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রাজ্যে পালাবদলের পরে প্রথম বার রথযাত্রার আয়োজন হতে চলেছে দিঘায়। গত বছর রথযাত্রার অনুষ্ঠানে ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’র অভিযোগ তুলেছিলেন অনেকে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এ বারের অনুষ্ঠানকে যাতে সেই সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করা যায়, সেই ব্যাপারেই বেশি সচেষ্ট কর্তারা। রথযাত্রার সময়ে অনেক পর্যটক দিঘায় যান। তাঁদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ও রথযাত্রার সময় উৎসবকে ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও।

    জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, ‘দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে সম্পূর্ণ করা যায়, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগত ভক্তদের যাতে রথযাত্রায় অংশগ্রহণে কোনও অসুবিধে না হয়, তার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত।’ রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, ‘আগে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ভক্তদের কাছে ভিড়তে দেওয়া হয়নি। আমরা চাইছি, সেই সংস্কৃতি ভেঙে সকলে যাতে রথের রশি স্পর্শ করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে।’

  • Link to this news (এই সময়)