রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডে তাঁর স্ত্রী সোনমকে মূল অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করেছিল পুলিশ। সম্প্রতি শিলংয়ের নিম্ন আদালত সোনম রঘুবংশীর জামিন মঞ্জুর করেছিল। মেঘালয় হাইকোর্টও জামিন বহাল রাখে। উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এ বার সুপ্রিম কোর্টে গেল মেঘালয় সরকার। তাদের আর্জি, অবিলম্বে সোনমের জামিন বাতিল হোক।
মেঘালয় সরকারের পক্ষের আইনজীবী এবং কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতের অবসরকালীন বেঞ্চের কাছে মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছেন। সেই আর্জিকে মান্যতা দিয়েছে আদালত। শুক্রবার মামলার শুনাানি হতে পারে। তুষার আদালতে জানিয়েছেন, সোনমকে পাকড়াও করার সময়ে তাঁকে গ্রেপ্তারির কারণ জানানো হয়নি, শুধুমাত্র এই যুক্তি দেখিয়ে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছিল আদালত। কিন্তু কিছু টাইপোগ্রাফিক্যাল ভুলের কারণেই তা হয়েছিল। শুধুমাত্র এই কারণে কাউকে জামিন দেওয়া যায় না বলেই আদালতে সওয়াল করেছেন তুষার। সোনম জামিনে বাইরে থাকলে, তিনি পালিয়েও যেতে পারেন বলে তিনি দাবি করেছেন।
২০২৫ সালের মে মাসে মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন রাজা এবং সোনম। সোহরা থেকে আচমকাই দু’জন নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের লোকেরা পুলিশের দ্বারস্থ হন। খোঁজাখুঁজি শুরু করে পুলিশ কয়েক দিন বাদে একটি গিরিখাত থেকে রাজার দেহ উদ্ধার করে। তখনও সোনমের উপর সন্দেহ হয়নি কারও। পরে তাঁকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত যত এগিয়েছে, এই ঘটনায় রহস্যের জাল ততই ঘন হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা এবং আরও তিন জনের সহযোগিতায় রাজাকে খুনের ষড়যন্ত্র কষেছিলেন সোনম। পুলিশ একে একে সকলকে গ্রেপ্তার করে। সোনম, রাজ, বিশাল, আকশ এবং আনন্দ— এই পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৭৯০ পাতার চার্জশিট আদালতে জমা দেয় পুলিশ।
পূর্ব খাসি হিল্স জেলা এবং দায়রা আদালতের তরফে লিগ্যাল এইড সেলের তরফে সোনমের মামলা লড়া হয়। আদালতে সোনম বলেছিলেন, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন তিনি। আদালতে পুলিশ জানিয়েছিল, রাজাকে খুনের পর শিলং থেকে বেশ কয়েকটি রাস্তা বদল করে ইন্দোর পৌঁছন সোনম। সেখানে ৩-৪ দিন তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার বাড়িতে ছিলেন। ৩-৪ দিন পরে সোনমকে ইন্দোরের দেবাসের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান রাজ। সেখানে পৌঁছে নিজের মোবাইলের সিম খুলে রাজকে দিয়েছিলেন সোনম। তাঁর জন্য নতুন একটি সিমকার্ডের ব্যবস্থা করেন রাজ। যদিও এত কিছুর পরে বেশি দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারেননি সোনম। ধরা পড়েন পুলিশের জালে। তাঁর সূত্র ধরে একে একে গ্রেপ্তার হন অন্য অভিযুক্তেরাও।