Big Breaking: পুনের বহুল আলোচিত কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড়। মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলের (Siya Goyal) লাই ডিটেক্টর বা পলিগ্রাফ পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পুনে গ্রামীণ পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাস্থলে কোনও প্রত্যক্ষদর্শী বা সিসিটিভি না থাকায় এখনও নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি, কেতন আগরওয়ালকে (Ketan Agarwal) কে ধাক্কা দিয়েছিল, অভিযুক্ত চেতন চৌধরি নাকি কেতনের হবু স্ত্রী সিয়া? তাই তদন্তে নতুন সূত্র পেতেই এই পরীক্ষার আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ২৫ বছর বয়সি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং সিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু চেতন চৌধরি পরিকল্পিত ভাবে পুনের লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যান। তার পরে সেখানে একটি গভীর খাদে ঠেলে ফেলে দিয়ে তাঁকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগে একাধিকবার হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ১৮ জুন সেই পরিকল্পনা কার্যকর করা হয় বলে পুলিশের দাবি। তবে ঘটনাস্থলে অন্য কেউ উপস্থিত না থাকায় পুরো মামলাটি মূলত পরিস্থিতিগত (circumstantial) এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণের উপর নির্ভর করছে।
বৃহস্পতিবার আদালতে পুলিশ জানায়, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা নিশ্চিতভাবে বলে দিতে পারে, কেতনকে ঠিক কে ধাক্কা দিয়েছিল। ঘটনাস্থলে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না এবং কোনও প্রত্যক্ষদর্শীও নেই। এ ছাড়া তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার আগে ও পরে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে একাধিক কল রেকর্ড, চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে বলে সন্দেহ। এর ফলে তদন্ত আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, পলিগ্রাফ পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযুক্তের বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়তে পারে এবং এমন কিছু তথ্য মিলতে পারে যা নতুন প্রমাণ সংগ্রহে সাহায্য করবে। যদিও পুলিশ স্বীকার করেছে, পলিগ্রাফ পরীক্ষার ফল আদালতে সরাসরি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে পরীক্ষার সময়ে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে যদি নতুন কোনও প্রমাণ উদ্ধার করা যায়, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
আইন অনুযায়ী, ভারতে কোনও অভিযুক্তকে জোর করে লাই ডিটেক্টর টেস্ট করানো যায় না। ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্টের 'Selvi vs State of Karnataka' মামলার রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছিল, অভিযুক্তের স্বেচ্ছাসম্মতি ছাড়া পলিগ্রাফ, নার্কো অ্যানালিসিস বা ব্রেন ম্যাপিং পরীক্ষা করানো অসাংবিধানিক। অভিযুক্ত রাজি হলেও তাঁর সম্মতি বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নথিভুক্ত করতে হয় এবং আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ দিতে হয়।
পুলিশের দাবি, সিয়া গোয়েল এবং সহ-অভিযুক্ত চেতন চৌধরি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। এ ছাড়া পরিবার ও অভিযুক্তদের বক্তব্যের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। সেই কারণেই পলিগ্রাফ পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
এর আগে তদন্তের স্বার্থে লোহাগড় দুর্গে ঘটনাস্থলে দুই অভিযুক্তকে নিয়ে গিয়ে ক্রাইম সিন পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করেছে পুলিশ। কেতনের সমান ওজনের একটি ডামি ব্যবহার করে কী ভাবে ঘটনাটি ঘটতে পারে, তা পুনর্নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি অভিযুক্তদের চলাফেরার ধরন বিশ্লেষণের জন্য গেইট অ্যানালিসিসও করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও ডিজিটাল ফরেন্সিক রিপোর্ট মিলিয়ে মামলাটিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সিয়ার বাড়ি গিয়ে ঘটনার দিন তার পরনে থাকা জামাকাপড়ও সিজ় করে। সেগুলি ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
এখন আদালত সিয়া গোয়ালের পলিগ্রাফ পরীক্ষার অনুমতি দেয় কি না, তার দিকেই নজর তদন্তকারী সংস্থা ও নিহত কেতন আগরওয়ালের পরিবারের। আদালতের সিদ্ধান্তের পরই মামলার তদন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে পুনে গ্রামীণ পুলিশ।