সমীর মণ্ডল, মেদিনীপুর
লাঠালাঠি লেগে গিয়েছে ২১ জুলাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে। আদত তৃণমূল বলছে, তারাই শহিদ দিবস পালনের ‘হকদার’। আর দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিদ্রোহীরা বলছেন, তাঁরাই আয়োজন করবেন শহিদ দিবস। পিছিয়ে নেই কংগ্রেসও।
আর শহর কলকাতা থেকে বেশ কয়েক যোজন দূরে বসে ১৩ জনের মধ্যে এক শহিদের স্ত্রী বলছেন, এই ভাগাভাগিতে মন ভারাক্রান্ত তাঁর। তিনি ঝুঁকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে।
তৃণমূল জমানায় কলকাতার ধর্মতলায় চারদিকের রাস্তা বন্ধ করে যেখানে ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠান হতো, সেখানেই অনুষ্ঠান করবে বলে গোঁ ধরেছে মমতা–শিবির। আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়–সহ বিদ্রোহীরাও চাইছে সেখানেই সভা করতে। তবে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে ধর্মতলায় রাস্তা বন্ধ করে, সাধারণ মানুষের অসুবিধে করে সেখানে সভা করার অনুমতি দেবে না বলে কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে। ফলে, শহিদ সভা নিয়ে অনিশ্চয়তা তুঙ্গে। কারা করবে, কোথায় করবে, তা নিয়ে চলছে জোর টানাপড়েন।
১৯৯৩–এর ২১ জুলাইয়ের পরে ৩৩ বছর কেটে গিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের গরগজপোতা গ্রামের শেখ আব্দুল খালেক ছিলেন যুব কংগ্রেসের সেই সভায়। খালেকের স্ত্রী কোহিনূরা বিবির কথায়, ‘যতদিন বাঁচব, দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)–র সঙ্গেই থাকব। দিদি ডাকলে অসুস্থ শরীর নিয়েও যাওয়ার চেষ্টা করব।’ করোনা অতিমারির একটি বছর বাদ দিলে প্রতি বছরই কলকাতায় স্মরণসভায় থেকেছেন কোহিনূরা। বয়স সত্তর পেরিয়েছে। হাঁটাচলায় কষ্ট হয়। বয়সের ভার, অসুস্থতা এবং রাজনৈতিক বিভাজন — সব মিলিয়ে এ বার পরিস্থিতি ভিন্ন।
কোহিনূরা বলছেন, ‘কে ঋতব্রত, আমরা জানি না। আমরা দিদিকেই চিনি। এখন আসল-নকল তৃণমূলের কথা শুনছি। আমাদের কাছে তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।আমি নিজে যেতে না পারলেও ছেলে-মেয়েদের পাঠাব। কেউ না কেউ অবশ্যই যাবে।’
১৯৯৩–এর সেই আন্দোলনের স্মৃতিও এখনও তাজা কোহিনূরার মনে। সে দিন পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও গুলিচালনার পরে দু’দিন নিখোঁজ ছিলেন খালেক। পরে রাস্তার ধারে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। কোহিনূরা বলেন, ‘দিদি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন আমার ছেলেকে রেলে চাকরি দিয়েছিলেন। আমরা তাঁর দয়ায় বেঁচে আছি। তাঁকে ভুলব কী ভাবে!’ কেশপুরের প্রবীণ তৃণমূল নেতা চিত্ত গড়াই বলেন, ‘খালেক আমাদের সঙ্গেই ধর্মতলায় গিয়েছিল। আমরা ওর পরিবারের পাশে ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।’