৭ দিনে উঠে যাওয়ার নির্দেশ, চিন্তায় ঘুম উড়েছে ১৮ তলা মার্কেটের ৪০০ দোকানদারের
বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মাথার উপর প্রায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা। হাতে আছে ৭দিন মাত্র সময় তার মধ্যে উঠে যেতে হবে। ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে হবে ব্যবসার। দোকানের বাইরে নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথিরিটি (এনকেডিএ) নোটিস টাঙিয়েছে। সে নোটিস পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় নিউটাউনের ১৮ তলা মার্কেটের প্রায় ৪০০ দোকান। সেই সব দোকানের কর্মচারি সহ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কয়েকশো পরিবারের মাথায় হাত। দোকানদারদের বক্তব্য, উচ্ছেদ করলে তাঁরা যাবেন কোথায়? না খেতে পেয়ে মারা যাবে পরিবারের সদস্যরা। আগে পুনর্বাসন দেওয়া হোক। তারপর উচ্ছেদ করুক। ব্যবসায়ীরা শুধু নয় নিউটাউনের বহু ক্রেতাও এই দোকানগুলির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ফোরামেও শুরু হয়েছে প্রতিবাদ জানানো।
স্মার্ট সিটির তকমা পেয়েছে নিউটাউন। এখন বিশ্ববাংলা সরণি দিয়ে এগলে ঝাঁ চকচকে শহর চোখে পড়ে। এই নিউটাউন পত্তনের সূচনা হয়েছিল ১৮ তলা আবাসন, বলাকা আবাসন এলাকা থেকেই। গ্রাম থেকে শহরের ছোঁয়া। মাঠের মাঝখানে আকাশ ছোঁয়া বহুতল। ১৮তলা আবাসনের নামেই জায়গার নাম হয়েছে ১৮তলা। মার্কেটের নামও ১৮তলা মার্কেট। রাস্তার দু’ধারে ফুটপাতের উপরই মুদি, মাছ, মাংস, সব্জি, মিষ্টি থেকে হার্ডওয়্যার, স্কুল-কলেজের সামগ্রী থেকে বাইক-গাড়ি সারাইয়ের গ্যারাজ তৈরি হয়েছে। ধীরে ধীরে রাস্তার ধারে গড়ে উঠেছে একাধিক দোকান। ব্যবসায়ীদের কথায়, সবমিলিয়ে দোকানের সংখ্যা প্রায় ৪০০। এলাকার বাজার বলতে এই ১৮তলা মার্কেটই।
বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে তাঁদের নাওয়া খাওয়া কার্যত বন্ধ। এনকেডিএ’য়ের পক্ষ থেকে ২৫ জুন নোটিস সাঁটানো হয়েছে একাধিক দোকানে। তাতে লেখা, ‘এনকেডিএ আইন ২০০৭-এর ধারা ৫১-র অধীনে সমস্ত দখলকারীকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, তাঁরা যেন এই নোটিস জারির তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এই ধরনের দখলদারিত্ব অপসারণ অথবা ভেঙে ফেলেন। সরকারি জমিটিকে তাঁরা খালি অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন। যাতে কোনো বাধা বা দায়বদ্ধতা না থাকে। অন্যথায়, এনকেডিএ উপযুক্ত প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ প্রসঙ্গত এনকেডিএ কর্তৃপক্ষ দোকান ভাঙলে তার খরচ বহন করতে হবে ব্যবসায়ীদেরই।
সফিয়ার রহমান নামে এক দোকানদার বলেন, এই এলাকা থেকেই নিউটাউনের সূচনা। আমরা বহু বছর ধরে ব্যবসা করছি। গত সোমবার আমরা এনকেডিএ অফিসে গিয়েছিলাম। পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে এসেছি। কারণ উচ্ছেদ করলে আমরা যাব কোথায়? জসিমুদ্দিন নামে অপর এক দোকানদার বলেন, আমরা, সকল ব্যবসায়ীরা চাই আগে পুনর্বাসন দেওয়া হোক। কারণ এই ব্যবসার উপরই আমাদের সবার সংসার চলে। সৎপথে সবাই রোজগার করছি। আশা করছি সরকার আমাদের বিষয়টি ভেবে দেখবে।