• পরকীয়া: প্রেমিকার স্বামী সহ তিনজনকে কুপিয়ে ধৃত যুবক
    বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে ঝামেলার জেরে এক প্রেমিক কোপাল তিনজনকে। বুধবার সকাল ছটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে কাশীপুর এলাকায়। অভিযুক্তের কাঠারির কোপে মহিলার স্বামী অনন্ত মান্না হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আহন হন ছেলে ও পরিবারের আরও এক সদস্য। তিনজনেই আরজিকর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় অভিযুক্ত দিলীপ পালকে গ্রেপ্তার করেছে কাশীপুর থানা। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কাঠারি। কাশীপুরের বাসিন্দা অনিতা মান্নার সঙ্গে অনেকদিন ধরেই অবৈধ সম্পর্ক ছিল দিলীপের। দিলীপ ওই তরুণীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসতেন। অভিযোগ, সেখানে ঘনিষ্টভাবে দেখা গিয়েছে দু’জনকে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অনিতা বিবাহ বহির্ভূত এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চান।

    এই নিয়ে ২০১৮ সাল থেকে ঝামেলা শুরু হয়। দিলীপ তাঁকে ছাড়তে রাজি ছিলেন না। অভিযোগ, তাঁদের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেন ওই যুবক। এই নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। এই পোস্ট তুলে নিতে দু’লক্ষ টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত। সম্মান বজায় রাখতে অনিতা দাবি মতো টাকাও দেন। তারপরই ওই মহিলা দিলীপের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

    তার ভিত্তিতে কাশীপুর থানা ২০১৮ সালে তোলাবাজি, আইটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন ধারায় কেস রুজু করে। সেই মামলার চার্জশিট হয়। এখন বিচারপর্ব চলছে। অভিযোগ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দিলীপ চাপ দিতে থাকে ওই মহিলাকে। বেশ কয়েকবার তাঁর বাড়িতে এসে ঝামেলাও করে যান। এই নিয়ে একাধিক ডায়েরিও হয় থানায়। তারপরেও থেমে থাকেননি অভিযুক্ত। বুধবার সকালে অনিতার পরিবারের লোকজন ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করছিলেন। তখনই সেখানে হাজির হন দিলীপ। তিনি কেস তুলে নিতে চাপ দেন। কেস তুলে না নিলে সকলকেই খুন করবেন জানান। একথা শুনে ওই যুবককে অনিতার পরিবারের লোকজন মারধর করেন। পুলিশ জেনেছে, দিলীপ তখনকার মতো বাড়ি চলে যান। এরপর বাড়ি থেকে কাঠারি নিয়ে এসে অনিতার স্বামীর দুই হাত, কাঁধ, বুক সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপাতে শুরু করেন। তিনি চিৎকার করলে বাঁচাতে আসেন ছেলে সহ পরিবারের অন্য লোকজন। তাঁদেরও কোপ দেন দিলীপ। ঘটনা দেখে প্রতিবেশীরা জড়ো হন। তাঁরা দিলীপকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি প্রতিবেশীদেরও আঘাত করেন। এমনকী অনিতাকেও কোপ দেন।

    এরপর প্রতিবেশীরা ওই যুবককে ধরে কাশীপুর থানায় খবর দেন। এর মাঝে আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় আরজিকর হাসপাতালে। তিনজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ভরতি করা হয়। দিলীপকে জেরা করে পুলিশ জেনেছে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে করা মামলা তুলে নিতেই সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)