• তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়: প্ল্যান পাসে বিল্ডিং বিভাগের নিয়মে কোথায় গলদ, খুঁজছেন তদন্তকারীরা
    বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিল্ডিং প্ল্যানে ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার নিয়মকানুনে কোথায় গলদ রয়েছে, খুঁজছে লালবাজার। প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু ফাঁকফোকর ধরা পড়েছে তদন্তকারীদের চোখে। সেই ফাঁক গলে তৃণমূল জমানায় ত্রুটিপূর্ণ একাধিক প্ল্যান পাস হয়ে গিয়েছে বলে জানতে পারছেন তাঁরা। এই ফাঁকগুলি ইচ্ছাকৃত রাখা হয়েছিল নাকি ভুলবশত, পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারাতলার গোডাউন বিপর্যয়ের তদন্তকারী অফিসাররা। 

    তদন্তে নেমে তাঁরা বুঝতে পারছেন, ওই গোডাউনের প্ল্যান পাস থেকে শুরু করে নির্মাণ—সব ক্ষেত্রেই কমবেশি ত্রুটি ছিল। কোনো একটি ক্ষেত্রে নজরদারি যথাযথ হলে এত বড়ো দুর্ঘটনা ঘটত না। তাই তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়া পুর ইঞ্জিনিয়ারদের থেকে জানতে  চান, কীভাবে প্ল্যান পাস হয় এবং এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন বা এসওপি রয়েছে কি না। সূত্রের খবর, ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, কোনো প্ল্যানের নকশা আর্কিটেক্ট জমা দেওয়ার পর তা নির্দিষ্ট কমিটির সামনে পেশ করা হয়। সপ্তাহে একবার করে বৈঠক হয় এই কমিটির। তাতে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াও দমকলসহ অন্য বিভাগের আধিকারিকরা থাকেন। প্ল্যানের নকশা জমা পড়ার পর পুর ইঞ্জিনিয়াররা কলামের মাপ, দূরত্বসহ বিভিন্ন বিষয় খুঁটিয়ে দেখেন। দমকলসহ অন্যান্য বিভাগ নিজেদের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে সন্তুষ্ট হওয়ার পর মত দেন। সকলে সহমত হলে প্ল্যান ছাড়পত্র পায়। এক্ষেত্রে একটি এসওপি রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নকশা জমা পড়ার পর ওই জায়গা সরেজমিনে দেখবেন বিল্ডিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররা। তারপর বিষয়টি কমিটিতে যাবে। কমিটির কেউ যদি ভিন্নমত পোষণ করেন, তাহলে  বিল্ডিং বিভাগের শীর্ষকর্তা বা মেয়র চাইলে নিজ ক্ষমতাবলে ওই প্ল্যান পাশ করিয়ে দিতে পারেন। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, যে প্ল্যান নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সহমত হতে পারছেন না, সেখানে কীভাবে ‘স্পেশাল পাওয়ার’ প্রয়োগ করা যায়? এসওপিতে আরও একাধিক ফাঁক ধরা পড়েছে তদন্তকারীদের চোখে। তবে তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না তাঁরা। 

    এছাড়া, ‘মাইনর ডেভিয়েশন’-এর যুক্তিতে জরিমানার বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণকে ‘রেগুলারাইজ’ করার পদ্ধতি কোন আইনের বলে করা হয়েছে, তা জানতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলছেন অফিসাররা। তৃণমূল সরকারের আমলে  পুরসভার মাসিক অধিবেশনে বিল্ডিং সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে নতুন প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। যা পরে বিধানসভায় বিল আকারে এনে পাস করিয়ে নিয়েছে তদানীন্তন শাসকদল। এই প্রস্তাবগুলির নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওই সব প্রস্তাব আইনে পরিণত হওয়ার পর তার সুবিধা বিশেষ কাউকে দেওয়া হয়েছে কি না, সেটাই খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা। 
  • Link to this news (বর্তমান)