• গরম চায়ে অসুস্থ! হাসপাতালের পথে মৃত্যু নরেন্দ্রপুরের ছাত্রের, গাফিলতির অভিযোগে থানায় পরিবার
    বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারাসত:  ফ্লাস্ক থেকে গরম চা গলায় ঢেলে অসুস্থ। তারপর মৃত্যু! নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া দীপ্তাংশু মাহাতর সঙ্গে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক এই ঘটনায় তোলপাড় পড়েছে রাজ্যে। ঘটনাটি মঙ্গলবারের। অসুস্থ ছাত্রকে তার বন্ধুরা প্রথমে নিয়ে গিয়েছিল হস্টেলের ডাক্তারের কাছে। তিনি দ্রুত তাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অভিযোগ, হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে দুই হাউস মাস্টার তাকে হস্টেলেই দীর্ঘক্ষণ রেখে দেন। খবর দেওয়া হয় বাবা মনোরঞ্জন মাহাতকে। মধ্যমগ্রামে বাড়ি। সেখান থেকে আসতেই দেড় ঘণ্টার উপর সময় লেগে যায় তাঁর। ছাত্রের বাবা আসার পর ছেলের সঙ্গে কথা বলেন। ততক্ষণে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ থেকে রক্ত বেরোতে শুরু করেছে। তখনই দীপ্তাংশুকে মহামায়াতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখান থেকে বলা হয়, পরিস্থিতি খারাপ। অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপরই বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় ওই ছাত্রের।

    প্রশ্ন উঠছে, মিশনের ডাক্তার বলা সত্ত্বেও কেন সঙ্গে সঙ্গে দীপ্তাংশুকে বাইরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল না? কেন অপেক্ষা করলেন দুই হাউস মাস্টার? ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন মনোরঞ্জনবাবু ও তাঁর পরিবার। নরেন্দ্রপুর থানায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ই-মেল মারফৎ গাফিলতির অভিযোগ করেছেন তিনি। সেই মতো তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ছাত্র মৃত্যুর খবর জানাজানি হতে বাকি আবাসিক পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বুধবার স্কুলে ছাত্র ও অভিভাবকদের আলোচনায় ডাকা হয়। সেখানে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেয় পড়ুয়ারা। তাদের শান্ত করতে মঞ্চ থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বামী ইশতেশানন্দ জানান, ওই দুই হাউস মাস্টারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। চলতে থাকে ছাত্রদের প্রতিবাদ। সমাজ মাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। স্কুলের গাফিলতি নিয়ে সরব হয়েছেন অভিভাবকরা। 

    পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, মঙ্গলবার সকালে এক শিক্ষকের চা নিয়ে যাওয়ার সময়ই ওই ফ্লাস্ক থেকে তা পান করে দীপ্তাংশু। সরাসরি গলায় ঢেলে দেওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই সে অসুস্থ বোধ করে। কথা বলতে সমস্যা হচ্ছিল। খেতেও পারছিল না। হস্টেলের ডাক্তারের পরামর্শ ছিল, হয় ছাত্রকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হোক, না হলে হাসপাতালে। ওই দুই হাউস মাস্টারের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাঁদের কর্তব্যে গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। 

    দীপ্তাংশুর পরিবারের সদস্যরা জানান, ফুটবল ছিল তার নেশা। প্রিয় দল ব্রাজিল। মিশনের নিয়মে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ দেখা সম্ভব ছিল না। তাই ৩ জুলাই বাড়ি ফিরে দিদি মঞ্জিমার সঙ্গে বসে বাকি খেলা দেখার পরিকল্পনা করেছিল সে। মঞ্জিমার দাবি, ‘ফ্লাস্কে রাখা চা খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লেও দীপ্তাংশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। পরে দুই ছাত্রের সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। শুরুতেই যথাযথ চিকিৎসা হলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হত।’
  • Link to this news (বর্তমান)