দীঘায় পর্যটকদের উদ্ধারে এবার অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, নুলিয়াদের ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৬
সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘা, মন্দারমণি সহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে কর্মরত নুলিয়াদের সংখ্যা বাড়ানো এবং তাঁদের ভাতা বৃদ্ধির কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেইমতো বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে বৈঠক হল। নুলিয়ার সংখ্যা বাড়ানো, ভাতাবৃদ্ধি সহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। সমুদ্রস্নানে নেমে তলিয়ে মৃত্যু ঠেকাতে সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা ঢেলে সাজা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার(ডিএসডিএ) সভাকক্ষে ওই বৈঠক হয়। সেখানে ছিলেন এলাকার বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, কাঁথির মহকুমা শাসক প্রতীক অশোক ধুমল সহ ডিএসডিএ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিকরা। বৈঠকে সমুদ্রস্নানের ক্ষেত্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতি বছরই দীঘা সহ অন্যান্য জায়গায় সমুদ্রে স্নান করতে নেমে বেশকিছু পর্যটক তলিয়ে মারা যান। প্রায়শই পর্যটকদের তলিয়ে যাওয়ার হাত থেকে উদ্ধার করেন নুলিয়ারা। এটা ঠেকাতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে বিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এখন দীঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণি মিলিয়ে ৬৩জন নুলিয়া রয়েছেন। নুলিয়ার সংখ্যা তো বাড়ানো হবেই। এখন নুলিয়ারা দিনপ্রতি ৬৩০টাকা ভাতা পান। সেই ভাতা বাড়ানো হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সমুদ্রস্নানে নেমে বিপন্ন পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের সরঞ্জাম নেই। দড়ি দিয়ে উদ্ধার করতে হয়। তাই সেইসমস্ত সরঞ্জাম আনার সিদ্ধান্ত হয়। এতে পর্যটকদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে। উদ্ধার নিয়ে নুলিয়াদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অনেক পর্যটকই নুলিয়া এবং পুলিশি নজরদারি এড়িয়ে সমুদ্রে নেমে যান এবং বিপদ ডেকে আনেন। তাই নজরদারি জোরদার করতে দীঘা সহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে দীঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণির সমুদ্রে নজরদারির জন্য বেশকিছু ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হয়। দীঘার সৈকতে কয়েকটি কংক্রিটের তৈরি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেগুলি টিকে থাকলেও তাজপুর, শঙ্করপুর, মন্দারমণি এলাকায় কাঠের তৈরি ওয়াচ টাওয়ার অনেক আগে ভেঙে পড়েছে। ফলে নজরদারির কোনো বালাই নেই। নজরদারির স্বার্থে দীঘা সহ প্রতিটি জায়গায় আরও ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, উত্তাল সমুদ্রে নুলিয়ারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পর্যটকদের উদ্ধার করেন। কিন্তু দীঘা থেকে মন্দারমণি বিশাল সমুদ্রতটে মাত্র ৬৩জন নুলিয়া রয়েছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। নুলিয়াদের সংখ্যা বাড়ানোর কথা তো বলেনই, ভাতা কতটা বৃদ্ধি করা যায় তা অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করে ঠিক করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি গোটা বিষয়টি মহকুমা শাসককে দেখার নির্দেশ দেন। মহকুমা শাসক বলেন, সৈকতে সমুদ্রস্নানে নেমে তলিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে পুরো ব্যবস্থা ঢেলে সাজা হচ্ছে। এক নুলিয়া রতন দাস বলেন, আমরা জীবন বাজি রেখে পর্যটকদের উদ্ধার করি। নুলিয়ার সংখ্যা বাড়ানো ও ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত খুব ভাল উদ্যোগ। পরিকাঠামো বাড়লে পর্যটকদের উদ্ধার করাও খুবই সহজ হবে। দীঘায় পর্যটকরা।-নিজস্ব চিত্র